বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে ‘ঋদ্ধিশ চৌধুরী’ (Ridhish Chowdhury) নতুন নাম নন। গত কয়েক বছরে একাধিক ধারাবাহিকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। ‘অলৌকিক না লৌকিক’-এর বিক্রম হোক বা ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’-এর হানি, প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। বিশেষ করে ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’-এ পাগড়ি, দাড়ি-গোঁফের লুকে তাঁর উপস্থিতি অনেক দর্শককে চমকে দিয়েছিল। সেই সময় অনেকেই প্রথমে চিনতেই পারেননি যে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋদ্ধিশ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন, তবে নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এতদিন তাঁর সামনে আসেনি।
বর্তমানে জি বাংলার দুই ধারাবাহিকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। একদিকে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন, অন্যদিকে ‘কমলা নিবাস’-এ প্রথমবার নায়ক (আদিত্য) হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। আর এই নায়ক হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, যাঁকে এতদিন পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গিয়েছে, তিনি আদৌ নায়কের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন কি না। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেছিলেন, তাঁর চেহারায় নাকি প্রচলিত নায়কসুলভ ভাব নেই।
এমন মন্তব্যও শোনা গিয়েছিল যে তাঁকে নাকি একজন সরকারি কর্মীর মতো বেশি লাগে, নায়ক হিসেবে নয়! তবে ধারাবাহিক যত এগিয়েছে, দর্শকদের সেই ধারণাও বদলাতে শুরু করেছে। ‘কমলা নিবাস’-এ আদিত্য চরিত্রে ঋদ্ধিশের অভিনয় এখন ধারাবাহিকের অন্যতম আলোচনার বিষয়। অনেক দর্শকের মতে, তিনি সংলাপ বলার ধরন, অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের আবেগকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলছেন, তা গল্পকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত নাটকীয়তার বদলে সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চরিত্রটিকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন। ফলে শুরুতে যাঁরা তাঁর নায়ক হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘কমলা নিবাস’-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ঋদ্ধিশের অবদান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দর্শকমহলে। ধারাবাহিকের গল্প, পল্লবীর সঙ্গে আদিত্যর রসায়ন মিলিয়ে যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন তিনি। এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকায় ধারাবাহিকটি স্লটলিড হওয়ার পর সেই আলোচনা আরও বেড়েছে। দর্শকদের একাংশের মতে, গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে ঋদ্ধিশের উপস্থিতি এবং অভিনয় ধারাবাহিকটিকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। ফলে এখন অনেকেই মনে করছেন, নায়ক হিসেবে তাঁর নির্বাচন মোটেও ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না।
আরও পড়ুনঃ “মেকআপ রুমে জমাটি আড্ডা, রোমান্টিক রিল, শুটিং ব্রেকে একান্ত মুহূর্ত” অল্পদিনেই কাছাকাছি স্বস্তিকা-সৌম্যদীপ! শুধুই নতুন জুটির রসায়ন, নাকি বাস্তব জীবনে প্রেম লেগেছে দুজনের জীবনে?
টেলিভিশনের জগতে অনেক অভিনেতাই দীর্ঘদিন পার্শ্ব চরিত্রে কাজ করার পর বড় সুযোগ পান। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে পারা সহজ নয়। ঋদ্ধিশ চৌধুরীর বর্তমান যাত্রাপথকে ঘিরে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। একসময় যাঁকে নিয়ে সংশয় ছিল, আজ সেই অভিনেতাকেই ঘিরে বাড়ছে প্রশংসা। ‘কমলা নিবাস’-এর সাফল্য এবং তাঁর অভিনয় নিয়ে চলা আলোচনা প্রমাণ করছে, শুধু চেহারা বা প্রচলিত নায়কসুলভ ভাব নয়, শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মনে জায়গা করে দেয় অভিনয়ই। আর সেই পরীক্ষায় আপাতত বেশ ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হচ্ছেন ঋদ্ধিশ।
