বাংলা টেলিভিশনের এই মুহূর্তের আলোচিত ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’র (Tare Dhori Dhori Mone Kori) সাম্প্রতিক পর্ব যেন গল্পের মোড় একেবারে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিল। গোরাচাঁদ গোস্বামী চরিত্রে বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় এমন এক মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে, যেখানে বাস্তব, স্মৃতি আর বিশ্বাস আলাদা করে চেনা মুশকিল। আর রূপ এবং অদ্বিতীয়ার দ্বৈত উপস্থিতিতে পল্লবী শর্মা গল্পটাকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি দৃশ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রশ্ন। তবে গতকালের পর্বে যা দেখা গেল, তা যেন আবেগের জায়গায় গিয়ে নাড়া দিয়েছে!
সাপের ছোবল খেয়ে যখন গোরার শরীরে দ্রুত বি’ষ ছড়িয়ে পড়ছে, হাসপাতালের বিছানায় তার নিঃশ্বাস ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে, তখন প্রায় সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছিল। ডাক্তারদের কথাতেও আশ্বাসের চেয়ে আশঙ্কাই বেশি ছিল। সেই সময় দিতির মুখে যে অসহায়তা দেখা গেল তা ছিল খুবই স্বাভাবিক, খুবই মানবিক। সে কোনও অলৌকিক শক্তির দাবি করেনি, কোনও বড় বড় মন্ত্রও জানত না। শুধু মনে পড়েছিল গোরার শেখানো এক ভক্তিগীতির কথা। হাসপাতাল থেকে ছুটে এসে মহাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে, কাঁপা হাতে প্রদীপ তুলে সে গান ধরল।
ভালোবাসার মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখার এক মরিয়া চেষ্টা হিসেবে। কিন্তু গান গাইতে গিয়েই যখন সে হঠাৎ লাইন ভুলে গেল, তখন দৃশ্যটা যেন পেল অন্য মাত্রা! ঠিক সেই মুহূর্তেই রূপ আবির্ভূত হয়! শুধু দিতির চোখে নয়, দর্শকের অনুভবেও। দিতি থমকে গেলেও গান থামায়নি, বরং যে লাইনটি তার মনে পড়ছিল না, সেটাই নতুন করে শুরু করে দেয় রূপ। দু’জনের কণ্ঠ যেন এক সুরে মিলল। আরতি চলল, প্রদীপ জ্বলল, প্রার্থনা সম্পূর্ণ হলো। সেই সম্মিলিত সুরের পরেই যেন চমক! গোরার শ্বাসপ্রশ্বাস স্থিতিশীল হতে শুরু করে।
মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই মুহূর্তে যেন অলৌকিকতা আর আবেগ একসঙ্গে মিশে গেছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দিতি নিজেই বুঝতে পারছিল না সে কী দেখল? সে ভেবেছিল সামনে যে মেয়েটি, সে হয়তো অদ্বিতীয়া, কারণ দিতি তো নিজেকে রূপ বলেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। প্রার্থনা শেষ হওয়ার পর সে তাকে থামাতে চাইলেও পারেনি। এই বিভ্রান্তির মধ্যেই গল্পটা আরও গভীর হয়ে উঠেছে। এখানে প্রশ্নটা শুধু পরিচয়ের নয়, অনুভূতিরও। একজন মানুষ কি অতীতের ভালোবাসাকে এতটাই আঁকড়ে ধরতে পারে যে তা বাস্তব হয়ে ফিরে আসে?
আরও পড়ুনঃ আধ্যাত্মিক চরিত্র থেকে ‘জেন জি’ নায়ক দিব্যজ্যোতি দত্ত! ‘রেড ফ্ল্যাগ, ভালবাসা বেশি’তে নতুন অবতারে, জুটি বাঁধছেন দিব্যাণী মণ্ডলের সঙ্গে! লাইক-শেয়ারের দুনিয়ায়, সম্পর্কের বাস্তবতা তুলে ধরবে জুটির গল্প!
সাম্প্রতিক পর্বের পর দর্শকদের তাই একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছে, ভালোবাসা কি সত্যিই মৃ’ত্যুকে হার মানাতে পারে? স্বামীর জীবন বাঁচাতে মর্ত্যের দিতি আর স্মৃতির রূপ একই সুরে প্রার্থনা করছে, এই দৃশ্য কেবল নাটকীয় মোড় নয়, সম্পর্কের এক অদ্ভুত শক্তির ইঙ্গিত! রূপের স্মৃতি আর অদ্বিতীয়ার জেদ, দুটো মিলেই হয়তো গোরাকে ফিরিয়ে আনল জীবনের দিকে! গল্প এখন কোন পথে যাবে, তা সময় বলবে। কিন্তু এই মুহূর্তটা দর্শকের মনে অনেক দিন রয়ে যাবে। আপনাদের কেমন লেগেছে এই পর্বটি?
