জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমার জীবনে অনেক না পারা আছে…”! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ শেষ হতেই জিতু কমলের সঙ্গে ছবি পোস্ট, কোন না-পাওয়া আর আক্ষেপের কথা জানিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়লেন অভিনেত্রী শিরিন পাল?

ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সফর অবশেষে শেষ হলো। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিককে ঘিরে বিতর্ক, চর্চা এবং নানা টানাপোড়েন ছিল অবিরাম। সম্প্রচারের শুরুর দিন থেকেই কাস্টিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। পরবর্তীতে মুখ্য চরিত্র ‘অপর্ণা’চরিত্রের অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় আচমকাই ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছিল টিম। সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যাবে ধারাবাহিকটি। শুধু অভিনেত্রী পরিবর্তনই নয়, একের পর এক বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছিল এই মেগাকে। কিন্তু সব বাধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই সম্প্রচার শেষ করল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’।

দিতিপ্রিয়ার বিদায়ের পর ‘অপর্ণা’ চরিত্রে আসেন নবাগতা অভিনেত্রী শিরিন পাল। তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কারণ দিতিপ্রিয়ার মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জায়গায় এসে দর্শকের মন জয় করা সহজ কাজ ছিল না। তবুও নিজের অভিনয় দক্ষতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চরিত্রটির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান শিরিন। দর্শকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন তিনি। ধারাবাহিকের শেষ সম্প্রচারের দিনে সেই দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতি এবং আবেগ ভাগ করে নেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করে তিনি নিজের অনুভূতির কথা জানান, যা মুহূর্তের মধ্যেই অনুরাগীদের নজর কেড়ে নেয়।

নিজের পোস্টে শিরিন জীবনের না-পাওয়া এবং না-পারার কথাও অকপটে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার অনেক না পারা আছে। কোনোদিন ক্লাসে ফার্স্ট না হতে পারা, মায়ের মতো আম ডাল না বানাতে পারা, একটা ইরফান খানের সঙ্গে ছবি না করতে পারা, পৃথিবীটাকে পাল্টে না ফেলতে পারা। তবে সবার বাড়ির মেয়ে হতে পেরেছি।” এই কয়েকটি লাইনের মধ্যেই ধরা পড়েছে একজন শিল্পীর সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত আক্ষেপ এবং স্বপ্নের গল্প। দর্শকদের ভালোবাসা পেয়ে যে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন, সেই অনুভূতিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর লেখায়। বিশেষ করে ‘সবার বাড়ির মেয়ে’ হয়ে ওঠার মন্তব্যটি অনুরাগীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

শুধু নিজের কথা নয়, এই দীর্ঘ সফরে পাশে থাকা সহকর্মী এবং ইউনিটের সকল সদস্যের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিরিন। তিনি লিখেছেন, “আমার স্পর্ধা নেই ধন্যবাদ বলার। আমার ফিরিয়ে দেওয়ার মতোও কিছুই নেই। আমার কেবল আছে এক আকাশ স্বপ্ন।” নিজের শিকড়ের কথা মনে করে ঝাড়গ্রামের সেই ছোট্ট শহরের শিশুদের স্বপ্নভরা চোখের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, সেই স্বপ্নই তাঁকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। পাশাপাশি ক্যামেরার সামনে ও পিছনে থাকা প্রত্যেক মানুষকে প্রণাম জানিয়ে তিনি বলেন, যারা নিঃশব্দে পাশে থেকেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন এবং আশা জাগিয়ে রেখেছেন, তাঁদের অবদান তিনি কখনও ভুলবেন না।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সহ-অভিনেতা জিতু কমলের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্যের খবর সামনে এসেছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দেন দু’জনেই। ধারাবাহিকের শেষ দিনে শিরিন সমাজমাধ্যমে জিতু কমলের সঙ্গে একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন এবং তাঁকেও ধন্যবাদ জানান। ১৪ মাসের দীর্ঘ যাত্রা শেষ হলেও শিরিন পালের লড়াই এবং স্বপ্ন দেখার গল্প এখানেই শেষ নয়। ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ মেয়ে থেকে ছোটপর্দার পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার এই পথচলা বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর শেষ দিনের আবেগঘন পোস্ট যেন সেই স্বপ্নময় যাত্রারই এক সুন্দর সমাপ্তি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page