জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“এই দৃশ্যে কমলা নয়, একজন বাস্তব মাকে দেখলাম!” “আজ কমলা যা বলেছে, সেটা প্রতিটা স্বার্থপর সন্তানের শোনা উচিত!” হাসপাতালে বাবা, এর মাঝেও ছেলেদের বিলাসিতার চিন্তা! রাগে নয়, এক কথাতেই দুই ছেলেকে চুপ করিয়ে উচিত শিক্ষা দিলেন কমলা! সোহিনী সেনগুপ্তের সংযত অথচ তীক্ষ্ণ অভিনয়ে মুগ্ধ ‘কমলা নিবাস’-এর দর্শকরা!

জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকে কমলা চরিত্রে সোহিনী সেনগুপ্ত শুরু থেকেই একজন ধৈর্যশীল, সংসারমুখী এবং আত্মসম্মানী নারীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। মঞ্চ ও পর্দা, দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই অভিনেত্রী প্রতিটি দৃশ্যে সংলাপের চেয়ে অভিব্যক্তির মাধ্যমে চরিত্রের আবেগ প্রকাশ করার জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক পর্বেও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। বরং একটি পারিবারিক দৃশ্যে তাঁর সংযত অথচ দৃঢ় অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, এই দৃশ্যে কমলার অসহায়তা, ক্ষোভ এবং একজন মায়ের কষ্ট যেভাবে ফুটে উঠেছে, তা একেবারেই বাস্তব মনে হয়েছে।

সাম্প্রতিক পর্বে দেখা যায়, শ্রীনিবাস হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি। গোটা পরিবার মানসিক চাপে থাকলেও সংসারের কাজ থেমে নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির বড় বৌমা সবার জন্য খিচুড়ি রান্না করে। কিন্তু খেতে বসে কমলার দুই ছেলে সেই খাবার দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে। তারা অন্য খাবারের আবদার করতে থাকে। বাবার অসুস্থতা, বাড়ির পরিস্থিতি কিংবা বৌমার পরিশ্রমের কথা একবারও না ভেবে তাঁদের এই আচরণে কমলা নিজের রাগ আর চেপে রাখতে পারেন না।

তবে তিনি সরাসরি ছেলেদের অপমান না করে এমনভাবে কথা বলেন, যাতে তাঁদের নিজের ভুলটা নিজেরাই বুঝতে পারে। বড় বৌমাকে সামনে রেখেই কমলা বলেন, বাবা হাসপাতালে এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও সারাদিন পরিশ্রম করে বাড়ি ফেরা ছেলেদের জন্য যদি নানা রকম রান্না করতেই হয়, তাহলে এমন বউ থাকার মানে কী? একজন স্ত্রী হিসেবে নিজেরও লজ্জা পাওয়া উচিত। দর্শকদের মতে, কমলা আসলে এই কথাগুলো বৌমাকে উদ্দেশ্য করে বলেননি, বরং নিজের ছেলেদের বিবেক জাগিয়ে তোলার জন্যই এমন কঠিন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। একজন মায়ের ক্ষোভ, অভিমান আর হতাশা এই দৃশ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই ফুটে উঠেছে।

এই দৃশ্য সম্প্রচারের পর দর্শকদের একাংশ সোহিনী সেনগুপ্তের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একজন দর্শক লিখেছেন, “কমলা রাগ করেনি, ছেলেদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সোহিনী সেনগুপ্ত এই দৃশ্যটা যেভাবে করলেন, মনে হচ্ছিল সত্যিই একজন মা নিজের সন্তানদের শিক্ষা দিচ্ছেন।” আবার আরেকজনের মন্তব্য, “চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর সংযত রাগ, সব মিলিয়ে এই পর্বে সোহিনী সেনগুপ্ত অসাধারণ। এই ধরনের অভিনয়ই একটা চরিত্রকে বাস্তব করে তোলে।” এই মন্তব্যগুলির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন বহু দর্শক।

সব মিলিয়ে, ‘কমলা নিবাস’-এর এই পর্বে গল্পের পাশাপাশি সোহিনী সেনগুপ্তের অভিনয়ও আলাদা করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন মায়ের ভেতরের যন্ত্রণা, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ভুল পথে হাঁটা সন্তানদের শুধরে দেওয়ার চেষ্টা তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছেন। তাই অনেকের মতে, এই পর্ব শুধু গল্পের জন্য নয়, কমলা চরিত্রে সোহিনী সেনগুপ্তের পরিণত অভিনয়ের জন্যও দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে থেকে যাবে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page