জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে গল্পের একেবারে অন্যরকম একটি দিক দর্শকদের নজর কেড়েছে। বড় কোনও নাটকীয় ঘটনা নয়, বরং শ্রীনিবাস ও শানুর জীবনে ঘটে যাওয়া দুটি আলাদা সমস্যার মধ্যে অদ্ভুত একটা মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা। দু’জনের সমস্যার ধরন আলাদা হলেও, নিজের পরিবারের সামনে সত্যিটা প্রকাশ না করার স্বভাবটা যেন একেবারেই একই। তাই অনেকের চোখে এখন সত্যিই যেন ‘যেমন বাবা, তেমনই ছেলে’।
শ্রীনিবাসবাবুর কথা প্রথমেই আসে। নিজের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার খবরটি তিনি কমলা তো বটেই, পরিবারের অন্য কাউকেও জানাননি। চাকরি চলে যাওয়ার পর সংসারের ভবিষ্যৎ কী হবে, মাসের খরচ কীভাবে চলবে, এই চিন্তা তাঁকে ভিতর থেকে ভাবিয়ে তুলছে। তবুও পরিবারের মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চান না তিনি। তাই নিজের সমস্যাটা নিজের মধ্যেই রেখে দিয়েছেন। বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও, তাঁর মনে যে কতটা চাপ চলছে, তা দর্শকরা ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছেন।
অন্যদিকে শানুর অবস্থাও অনেকটা একই রকম। নিজের ব্যবসায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সে। প্রায় ৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, অথচ সেই বিষয়টিও পরিবারের কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইছে না শানু। কীভাবে ব্যবসার পরিস্থিতি সামলাবে, কীভাবে এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, সেই চিন্তাতেই রয়েছে সে। কিন্তু বাড়ির মানুষকে কিছু না জানিয়ে নিজের মতো করেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে। ফলে শ্রীনিবাসের সঙ্গে শানুর পরিস্থিতির মিলটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দর্শকদের একাংশের মতে, বাবা-ছেলের মধ্যে এই মিলটাই এই মুহূর্তে গল্পের বেশ সুন্দর একটা দিক তুলে ধরছে। দু’জনেই পরিবারের কথা ভাবছে, কিন্তু সেই ভাবনার ধরনটা এমন যে নিজের সমস্যাটাই পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে। শ্রীনিবাস মনে করছেন তাঁর অবসরের খবর জানলে পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়বে, আর শানু হয়তো নিজের ব্যবসার ক্ষতির কথা বলে বাড়ির মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাইছে না। অর্থাৎ দু’জনেই পরিবারের ভালোর কথা ভেবেই নিজেদের কষ্ট চেপে রাখছে।
আরও পড়ুনঃ “একঘেয়ে লাগছে, কোয়েল অনেক বেটার ছিল” দুর্গা রূপে শুভশ্রীকে দেখে বেজায় ক্ষু’ব্ধ দর্শকরা! ‘প্রতি বছর একই মুখ, আর কত?’ ২০২৬-এর মহালয়ার প্রথম ঝলকেই কটা’ক্ষের মুখে স্টার জলসা! পদ্মে হিয়া, নীলবসনে সুস্মিতা, বাকিদের দেবী সাজে দেখে কী বলছে নেটপাড়া?
তবে সমস্যা হল, একটা সময়ের পর নিজের কষ্ট একা সামলানো কতটা সম্ভব? শ্রীনিবাসের অবসরের সত্যি এবং শানুর ৯ লাখ টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি, দুটো খবরই যদি কোনওভাবে একই সময়ে পরিবারের সামনে চলে আসে, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন দেখার। দর্শকদের অনেকেই তাই বাবা-ছেলের এই মিল নিয়ে আলোচনা করছেন। দু’জনেই যদি একে অপরের মতো নিজের সমস্যা লুকিয়ে যেতে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কি বড় কোনও সমস্যায় পড়বে ‘কমলা নিবাস’-এর এই পরিবার?
