‘ফুলকি’ ধারাবাহিকে রুদ্ররূপ সান্যালের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন সুদীপ সরকার। পর্দায় তাঁর চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর উপস্থিতির দৃঢ়তা চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছিল। রুদ্ররূপের ধূসর মানসিকতা ও তীক্ষ্ণ ব্যক্তিত্ব এখনও ভোলেননি অনুরাগীরা। সেই সাফল্যের মাঝেই শোনা যাচ্ছে, ছোটপর্দায় নাকি আবারও নতুন রূপে ফিরতে চলেছেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাঁকে অনেকে মজা করে দুষ্টু লোক বলেই ডাকেন, কারণ খলচরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় বরাবরই আলোচনায় থাকে। তবে বাস্তবে তিনি কতটা আলাদা, তা জানতেই আগ্রহী দর্শক।
অনেক শিল্পীর অভিযোগ, একবার কোনও বিশেষ ধরনের চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেলে বারবার সেই একই ছাঁচে ফেলে দেওয়া হয়। সুদীপও কি সেই অভিজ্ঞতার শিকার? প্রশ্ন উঠতেই অভিনেতা স্পষ্ট জানালেন, তিনি শুধু নেতিবাচক চরিত্রেই আবদ্ধ নন। ইতিবাচক চরিত্রেও কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর মতে, এখন ধারাবাহিকের গল্প বলার ধরন বদলেছে। নায়ক নায়িকার পাশাপাশি পার্শ্বচরিত্রও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে চরিত্রের বৈচিত্র্য তৈরি হচ্ছে। তাই একঘেয়েমির প্রশ্নই ওঠে না, বরং প্রতিটি ভূমিকাকে নতুনভাবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
সুদীপের কথায়, পরপর নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি সচেতনভাবে প্রতিটিকে আলাদা মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করেন। রুদ্ররূপের সাফল্য যেন অন্য কোনও চরিত্রকে ঢেকে না দেয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক। চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, সংলাপের গতি, শরীরী ভাষা সব কিছুতেই রাখতে চান স্বাতন্ত্র্য। দর্শক যাতে প্রতিবার নতুন কিছু খুঁজে পান, সেটাই তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। একজন অভিনেতার আসল সার্থকতা এখানেই, একই রঙের চরিত্রেও ভিন্ন স্বাদ তৈরি করা।
‘ফুলকি’র পর এবার তাঁকে দেখা যাবে নতুন ধারাবাহিক ‘গঙ্গা’য়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সেখানেও কি ধূসর কিংবা নেতিবাচক চরিত্রেই দেখা মিলবে তাঁর? অভিনেতা জানালেন, গল্পে তাঁর চরিত্রের কিছু ধূসর দিক রয়েছে ঠিকই, তবে এখনই সবটা স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ এখনও শুটিং শুরু হয়নি। মার্চ মাস থেকে শুটিং ফ্লোরে পা রাখবেন তিনি। নতুন গল্প, নতুন টিম আর নতুন চরিত্র নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত সুদীপ।
আরও পড়ুনঃ ‘পারুল ছাড়া রায়ানের পাশে কাউকে মানায় না…’ অভিনেত্রী অনামিকাকে “বুড়ি” বলে কটাক্ষ! মুখ খুললেন অভিনেত্রী!
কাজের ব্যস্ততা শুরুর আগে আপাতত পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেতা। বিশেষ করে মেয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোই এখন তাঁর দিনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। পর্দার গম্ভীর বা কঠোর মানুষটির ব্যক্তিজীবন যে একেবারেই আলাদা, তা বোঝা যায় এই কথাতেই। অভিনয়ের জগতে নিজেকে বারবার নতুনভাবে প্রমাণ করার পাশাপাশি একজন বাবা হিসেবেও দায়িত্ব উপভোগ করছেন তিনি। তাই বলা যায়, ছোটপর্দায় সুদীপ সরকারের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় যেমন দর্শক, তেমনই প্রস্তুত তিনি নিজেও।
