জি বাংলার ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক গল্পে পারুলের মৃত্যু দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। রায়ানকে নিয়ে নিজের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল পারুল। দুই সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পর তাদের নিজের হাতে বড় করার স্বপ্নও ছিল তার। কিন্তু সন্তানদের পৃথিবীর আলো দেখানোর পরেই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপদ। সংযুক্তার ষড়যন্ত্রে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায় পারুল। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর্বেই দেখানো হয় পারুলের মৃত্যুর ঘটনা। এর পরেই গল্প প্রায় ২০ বছর এগিয়ে যায় এবং বড় হয়ে যায় রায়ান ও পারুলের সন্তানরা।
পারুলের মৃত্যুর পর থেকেই দর্শকদের একাংশের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এত লড়াই করে নিজের ভালোবাসা, সংসার এবং পরিবারকে পাওয়ার পরও কেন এমন পরিণতি হল পারুলের? রায়ান ও পারুলের সম্পর্ক যখন পূর্ণতা পেয়েছিল, তখনই কেন তাঁদের সংসারের সুখ কেড়ে নেওয়া হল? বিশেষ করে দুই সন্তানকে নিজের হাতে মানুষ করার সুযোগও পেল না পারুল। অন্যদিকে গল্পে টগর চরিত্রটিও দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এক দর্শকের মতে, টগর এত অন্যায় করেও শেষ পর্যন্ত নিজের চাওয়া পূরণ করে ফেলল। আর সেই তুলনাতেই পারুলের জীবনকে আরও বেশি বেদনাদায়ক বলে মনে হয়েছে তাঁর।
এক দর্শক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “টগর এতো শয়তানি করলো, অথচ ওর স্বপ্ন কি সুন্দর পূর্ণ হয়ে গেল। ছেলে চেয়েছিল, ঠিক ছেলেই হলো।” তিনি আরও লিখেছেন, “কি সুন্দর টম বড় হয়ে গেল বাবা মায়ের কাছে।” অর্থাৎ টগরের জীবনে যে স্বপ্নগুলি ছিল, তার অনেকটাই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হয়েছে বলেই মনে হয়েছে ওই দর্শকের। অন্যদিকে পারুলের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। সারাজীবন নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও পারুল অন্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিজের সুখের চেয়ে পরিবার এবং কাছের মানুষদের জন্য বেশি ভাবতে দেখা গিয়েছে তাকে। তবু শেষ পর্যন্ত নিজের সন্তানদেরও নিজের হাতে বড় করে যেতে পারল না সে।
ওই দর্শক পারুলের জীবনের পরিণতি নিয়ে আরও লিখেছেন, “পারুল সারাজীবন এতো কষ্ট করলো, এতো মানুষের উপকার করলো, তবুও ওর কোনো স্বপ্নই পূরণ হলো না, সব পেয়েও সব হারিয়ে গেল।” এরপরই এসেছে আরও আবেগঘন মন্তব্য, “মৃত্যু জীবনটা কেড়ে নিল…” শুধু নিজের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকা নয়, দুই মেয়েকে নিজের হাতে বড় করতে না পারার আক্ষেপটিও দর্শকের কথায় উঠে এসেছে। পারুলের মৃত্যু যে শুধুই একটি চরিত্রের বিদায় হিসেবে দর্শকদের কাছে ধরা দেয়নি, তা এই প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট। বিশেষ করে রায়ান ও পারুলের এতদিনের লড়াইয়ের পর তাঁদের সংসার পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তেই এমন পরিণতি অনেক দর্শকের কাছে মেনে নেওয়া কঠিন হয়েছে। তাই নতুন ২০ বছরের লিপের পরেও পারুলকে ঘিরে আবেগ এবং আফসোস কমছে না।
আরও পড়ুনঃ বিগ বস বাংলার ঘরে এবার গীতশ্রী রায়? ‘মন ফাগুন’-এর সহ অভিনেত্রী কি থাকবেন প্রিয় বন্ধু নাকি হয়ে উঠবেন সৃজলার চরম প্রতিদ্বন্দ্বী? নতুন ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিতে, বদলে যাবে খেলার সমীকরণ?
সবশেষে ওই দর্শকের মন্তব্যই যেন পারুলের গল্পের প্রতি তাঁর জমে থাকা অভিমানকে প্রকাশ করেছে। তিনি লিখেছেন, “মেয়ে দুটোকেও নিজের হাতে বড় করতে পারল না।” এরপরই তাঁর আক্ষেপ, “এই জন্যই হয়ত বলে জীবনে কখনও সততার সাথে কিছু করতে নেই।” অবশ্য এটি ওই দর্শকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া, ধারাবাহিকের পক্ষ থেকে এমন কোনও বক্তব্য নয়। এদিকে পারুলের মতো দেখতে পার্বতীর আগমনে গল্পে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। রায়ানও পার্বতীকে দেখে পারুল ফিরে এসেছে বলে মনে করছে, আর দর্শকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে পার্বতী কি পারুলের পুনর্জন্ম, নাকি অন্য কোনও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। তবে পারুলের মৃত্যু এবং তাঁর অসম্পূর্ণ স্বপ্নের জায়গাটি যে দর্শকদের মনে এখনও গভীরভাবে রয়ে গিয়েছে, এই প্রতিক্রিয়াই তার প্রমাণ।
