জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

বিতর্কে শুরু, ইতিহাসে সমাপ্তি! নিষিদ্ধ ছবির অন্ধকার ভেদ করে তিন দশকে তিনবার জাতীয় সম্মান! জরুরি অবস্থার নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বীকৃতির শিখরে, এমন বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এই অভিনেত্রীকে চেনেন?

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে সুরেখা সিক্রির নাম এক অনন্য উচ্চতায় লেখা থাকবে। থিয়েটার, সিনেমা এবং টেলিভিশন তিন মাধ্যমেই তিনি সমান দক্ষতায় নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিবেদন এতটাই গভীর ছিল যে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে সক্রিয় ছিলেন। অথচ তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল এক বিতর্কিত অধ্যায় দিয়ে, যখন তাঁর প্রথম ছবিই সরকারের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে যায়।

সেই ছবির নাম কিসসা কুরসি কা, যা মুক্তির আগেই রাজনৈতিক কারণে নিষিদ্ধ হয় এবং ছবির প্রিন্ট পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছিল। তবু এই বাধা তাঁর যাত্রাকে থামাতে পারেনি। বরং এই ঘটনাই যেন তাঁকে আরও দৃঢ় করে তোলে। পরে জরুরি অবস্থার পর ছবিটি পুনর্নির্মাণ হয়ে মুক্তি পায়, আর সুরেখা ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন।

এরপর একের পর এক শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন যে তিনি কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক অভিনয় প্রতিষ্ঠান। তমস ধারাবাহিক থেকে শুরু করে সেলিম ল্যাংড়ে পে মাত রো, পরিণীতি কিংবা লিটল বুদ্ধ—প্রতিটি কাজেই তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গভীর অভিব্যক্তি আর সংযত সংলাপ বলার ভঙ্গি তাঁকে আলাদা মর্যাদা দেয়।

তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে মাম্মো ছবির মাধ্যমে, যার জন্য তিনি প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর জুবেইদা ছবিতে অসামান্য অভিনয়ের জন্য দ্বিতীয়বার এবং বহু বছর পরে বাধাই দো ছবির জন্য তৃতীয়বার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। তিনটি ভিন্ন দশকে জাতীয় সম্মান পাওয়া সত্যিই বিরল কৃতিত্ব, যা তাঁর প্রতিভার উজ্জ্বল প্রমাণ।

শুধু বড় পর্দাতেই নয়, ছোট পর্দাতেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। বালিকা বধূসহ একাধিক ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। জীবনের শেষ পর্বে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। ২০২১ সালে তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও সমান জীবন্ত।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page