জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

বিশ্বজিতের গোমাংস মন্তব্যে পাশে মানসী, নোংরা ট্রোলিংয়ের প্রতিবাদ অভিনেত্রীর, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী আবেদন তাঁর?

বাংলাদেশে গিয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। নেটপাড়ার একাংশ অভিনেতার সমালোচনা করার পাশাপাশি নানা কটাক্ষও করতে শুরু করে। এমনকি তাঁকে ‘ব্রাহ্মণ সমাজের কলঙ্ক’ বলেও আক্রমণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে যখন বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে, তখন বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ও পরিচালক মানসী সিনহা।

বিশ্বজিতের মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন মানসী। সেখানে বিশ্বজিৎকে কেক খাওয়ানোর একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, বাংলার সম্মানীয় অভিনেতাকে নিয়ে যারা নোংরা পোস্ট করছেন, তাঁদের ধিক্কার জানানো উচিত। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, এই ধরনের পোস্ট করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। অর্থাৎ বিশ্বজিতের খাবারের পছন্দ নিয়ে মত না মিললেও তাঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুরুচিকর মন্তব্যকে কোনওভাবেই সমর্থন করছেন না মানসী।

পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন মানসী। তাঁর কথায়, বাংলাদেশে আতিথেয়তা ভারতের তুলনায় ভালো—বিশ্বজিতের এই মন্তব্য তিনি সমর্থন করেন না। কারণ তাঁর কাছে নিজের দেশই সেরা। তবে সেই কারণে তিনি বিশ্বজিতকে ট্রোল করেননি। বরং হাসতে হাসতেই তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, এমন কথা কেন বললেন। মানসীর বক্তব্য, একজন মানুষ কী খাবেন বা কী পরবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। বিশ্বজিৎকে বাংলাদেশে কী খাবার ভালো লাগে, সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন বলেই তিনি নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন।

আসলে শ্যুটিংয়ের কাজে বাংলাদেশে গিয়ে সেখানকার মানুষ, আতিথেয়তা এবং খাবারের প্রশংসা করেছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাংলাদেশের কোন খাবার তাঁর সবচেয়ে পছন্দের। উত্তরে তিনি গোমাংস এবং ইলিশের কথা বলেন। এরপর সাংবাদিক জানতে চান, সেই খাবার ইতিমধ্যেই খাওয়া হয়েছে কি না। অভিনেতা জানান, তিনি সদ্য বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। দুপুরে মাংস-ভাত খেয়েছেন এবং রাতে গোমাংস খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই বিতর্কের সূত্রপাত।

এদিকে বিতর্কের পর বিশ্বজিৎও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পেট, মন এবং টাকা—সবই তাঁর নিজের। তাই তিনি কী খাবেন, কতটা খাবেন, সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেওয়ার অধিকার রাখেন না। মানসীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন অভিনেতা বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে খাবারের পছন্দকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক কটাক্ষের আলোচনাতেও পরিণত হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page