বলিউডের সাম্প্রতিক কিছু গান নিয়ে বারবার বিতর্ক উঠছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, এসব গানের ভাষা ও উপস্থাপনা রুচির বাইরে চলে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। তিনি এখন তাঁর নতুন হিন্দি ছবি ‘ভূত বাংলা’-র প্রচারে ব্যস্ত। প্রচারের সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুধু গীতিকার বা নির্মাতাদের দোষ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, দর্শকই আসলে ঠিক করে দেন কোন ধরনের গান জনপ্রিয় হবে।
যিশু মনে করেন, এখনকার বিনোদন দুনিয়ায় মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুব সহজ। কিন্তু বাস্তবে নির্মাতারা সেই ধরনের কনটেন্টই তৈরি করেন, যা দর্শক গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি মানুষ কুরুচিকর বা আপত্তিকর গানের প্রতি আগ্রহ না দেখাতেন, তাহলে এই ধরনের গান এতটা তৈরি হত না। অর্থাৎ, দর্শকদের পছন্দই এই ট্রেন্ড তৈরি করছে। তাই দোষের ভাগ শুধু শিল্পীদের উপর চাপানো ঠিক নয় বলেই মত তাঁর।
নিজের আসন্ন ছবি ‘ভূত বাংলা’ নিয়ে কথা বলতে গিয়েও এই বিষয়টি তুলে ধরেন যিশু। ছবিতে তাঁর চরিত্র এবং কিছু বিতর্কিত গান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৃজনশীল স্বাধীনতা সবসময় থাকবে, কিন্তু সেটার ব্যবহার কীভাবে হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়। তাঁর মতে, গান বা ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে দর্শকদের ভূমিকাও ভাবতে হবে।
যিশু আরও বলেন, সাধারণত যেসব গান নিয়ে বেশি বিতর্ক হয়, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি দেখা ও শোনা হয়। মানুষ নিজেরাই সেই কনটেন্টকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তাই তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি কোনও গান ভালো না লাগে, তাহলে সেটি না শোনা বা এড়িয়ে যাওয়াই সবচেয়ে সহজ পথ। এতে করে ধীরে ধীরে সেই ধরনের কনটেন্ট তৈরি কমে যেতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
আরও পড়ুনঃ বছরের শুরুতেই পদ্মভূষণ লাভ, শ্রবণশক্তি হারিয়ে বিরল রো’গের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অলকা ইয়াগনিক! নতুন কাজ থেকে দূরে, আর কি কখনও শোনা যাবে না জনপ্রিয় গায়িকার কন্ঠ?
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বিনোদন জগতে যেমন সাময়িক বিতর্কিত গান রয়েছে, তেমনই আবার গুলজার বা জাভেদ আখতারের মতো গুণী স্রষ্টারাও আছেন। যিশু জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক জিনিসের দিকেই বেশি মন দিতে চান। অকারণ বিতর্কে জড়াতে তিনি আগ্রহী নন। তাঁর কথায়, বর্তমান সময় এমনিতেই অস্থির, তাই নতুন করে নেতিবাচকতা ছড়ানোর কোনও মানে নেই। বরং ভালো সৃষ্টিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
