বড় সিনেমায় গান গেয়েও জোটেনি স্বীকৃতি! মুক্তির সময় অন্য গায়িকার কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে নিজের গান, টলিউড-বলিউডের ‘টক্সিক কালচার’ নিয়ে বি*স্ফোরক অন্বেষা দত্তগুপ্ত!

সংগীতজগতে নিজের প্রতিভার জোরে পরিচিতি তৈরি করেছেন গায়িকা অন্বেষা দত্তগুপ্ত। বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও তাঁর কণ্ঠের জাদু মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের। তবে সংগীতজগতে তাঁর পথচলা যে সবসময় মসৃণ ছিল, এমনটা নয়। সম্প্রতি ‘Straight Up With Shree’ পডকাস্টে নিজের কেরিয়ারের নানা অজানা অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন গায়িকা। সেখানে উঠে এসেছে এমন কিছু ঘটনা, যা সংগীতজগতের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অন্বেষা জানিয়েছেন, বড় মাপের সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত নিজের কণ্ঠে সেই গান শুনতে পাননি তিনি। তাঁর কথায়, “বড় সিনেমায় গান করলাম বিশাল বড় লেভেল। গানটা বেরোনোর সময় দেখলাম অন্য কারোর গলা হয়ে গেছে।” অর্থাৎ রেকর্ডিং সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও ছবি বা গান প্রকাশের সময় তাঁর কণ্ঠ সরিয়ে অন্য কোনও শিল্পীর কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছে। পডকাস্টের সঞ্চালক তাঁকে প্রশ্ন করেন, এমন অভিজ্ঞতা কি সত্যিই তাঁর হয়েছে? উত্তরে অন্বেষা জানান, শুধু একবার নয়, একাধিক গানের ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

এই অভিজ্ঞতাগুলিকে একসময় নিজের কাছে বড়সড় প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাক বলেই মনে হত অন্বেষার। কিন্তু এখন বয়স এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়গুলিকে অন্যভাবে বুঝতে শিখেছেন তিনি। অতীতে যা স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছিলেন, এখন সেগুলির মধ্যে সংগীতজগতের অসুস্থ পরিবেশের ছাপ দেখতে পান। তাঁর কথায়, “যেটা এখন হলে I am strong enough to understand যে it’s a toxic culture”। তবে প্রতিটি ঘটনার জন্য সরাসরি সংগীত পরিচালককে দায়ী করতে চান না গায়িকা। কারণ অনেক সময় তাঁদের হাতেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না বলে মনে করেন তিনি। অন্বেষা আরও জানান, কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে মিউজিক ডিরেক্টরেরও কিছু করার থাকে না। তাঁর বক্তব্য, “বা হয়তো কেউ এমন কিছু বলেছে যেখানে মিউজিক ডিরেক্টরেরও say নেই, কিছু করার নেই।” অর্থাৎ সংগীত পরিচালকের পছন্দ বা সিদ্ধান্তের বাইরেও অন্য কোনও পক্ষের নির্দেশে গানের চূড়ান্ত রূপ বদলে যেতে পারে। এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েই সংগীতজগতের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।

বিশেষ করে মুম্বইয়ের সংগীতজগতে মিউজিক কোম্পানিগুলির অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অন্বেষা। তাঁর মতে, অনেক সময় সংগীত পরিচালকদেরও সংস্থাগুলির সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হয়। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, “Many many a times মিউজিক কোম্পানিরা বোম্বেতে এরকমও হয়, Music company রা এতটাই dictate করে যে মিউজিক কম্পোজারদের man হয়ে যেতে হয়, have to be yes-men।” অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই সংগীত পরিচালকদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে এই পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সংগীত পরিচালককে দোষারোপ করতে চাননি অন্বেষা। তাঁর কথায়, “I am not blaming them, এটা একটা situation।” তিনি আরও বলেন, “একটা culture কে সেটার ওপর দিয়ে টপকে আমি চলে যাবো, সেটা বললে তো হবে না। এটা সম্ভব না। সেটা তো হয়ও না।” অর্থাৎ গোটা ব্যবস্থার মধ্যে থেকে একা নিজের মতো করে সবকিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের অবস্থান বজায় রাখার মধ্যে যে কঠিন লড়াই রয়েছে, তা নিজের কেরিয়ারে বারবার অনুভব করেছেন গায়িকা। তাঁর কথায়, সংগীতজগতের এই সংস্কৃতির মধ্যেই তাঁকে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে।

তবে পরিস্থিতির সঙ্গে সবসময় আপস করেননি অন্বেষা। নিজের কাজ এবং সম্মানের প্রশ্নে কয়েকটি প্রোজেক্টে তিনি প্রতিবাদ করে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু তার ফলও তাঁকে ভোগ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন গায়িকা। অন্বেষার কথায়, “আমি বেশ কয়েকটা প্রোজেক্টে স্ট্যান্ড নিতে গিয়ে আমার কাজটা চলে গেছে।” পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর পরিবর্তে সেই কাজগুলি অন্য কয়েকজন সহকর্মী করে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আমি পরে জেনেছি আমার কিছু colleagues রা কাজটা করে নিয়েছে।” তবে এই ঘটনায় সহকর্মীদের প্রতি কোনও ক্ষোভ বা রাগ পুষে রাখেননি তিনি। বরং গোটা বিষয়টিকে একটি ব্যবস্থার ফল হিসেবেই দেখেছেন। অন্বেষা বলেন, “তো সেটাও হয়েছে। আমি তার জন্য কিন্তু তাদের প্রতি রাগ নেই। এটা একটা system। System এইভাবে চলছে। এবং সেটার মধ্যে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছে।” অর্থাৎ নিজের কাজ হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে কষ্ট দিলেও অন্য শিল্পীদের দোষ দিতে চান না তিনি। তাঁর মতে, ব্যক্তিবিশেষের চেয়ে অনেক বড় এই ব্যবস্থার মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেও কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাননি গায়িকা।

সংগীতজগতের এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নিজের ছোটবেলার দিনগুলির কথাও তুলে ধরেছেন অন্বেষা। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই কেরিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় স্কুলের পড়াশোনা এবং সংগীতচর্চা দুটোই একসঙ্গে সামলাতে হত তাঁকে। এই জায়গায় মা-বাবার অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন গায়িকা। তাঁর কথায়, “And thanks to my মা-বাবা। মা, বাবা, সেই leap-টা নিতে আমাকে help করেছে।” ছোট বয়সে কেরিয়ার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন কতটা জরুরি ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে অন্বেষা বলেন, “As a school girl আমার career শুরু করতে পেরেছি।” তাঁর মতে, মা-বাবা যদি সেই সময় ভরসা না দিতেন, তাহলে এত অল্প বয়সে কাজ শুরু করা সম্ভব হত না। তিনি আরও বলেন, “ঠিক না হলে ওরা সেই ভরসাটা না দিলে যদি বলতো যে না এখন স্কুল যাওয়াটা দরকার নেই, আমি তো কিছু করতে পারতাম না।” কারণ মাত্র ১৩ বছরের একটি মেয়ের পক্ষে একা নিজের কেরিয়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব ছিল না। তবে গান করতে গিয়ে পড়াশোনাকে কখনও অবহেলা করেননি অন্বেষা। তাঁর কথায়, “Naturally আমি তার মধ্যেও এমন না যে আমি পড়াশুনা ছেড়ে করেছি। পড়াশুনাও চলেছে parallelly। আবার studio তেও যাচ্ছি। স্কুল ব্যাগ নিয়ে studio তে গেছি এরকমও হয়েছে।” ছোটবেলা থেকে মা-বাবার সেই ভরসা এবং নিজের পরিশ্রমই তাঁকে আজকের জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করেছে বলে স্পষ্ট তাঁর বক্তব্য।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page