সালটা ২০১৪, সলমন খানের ‘কিক’ ছবির ‘ইয়ার না মিলে’ গান দিয়ে বলিউডে পরিচিতি পান গায়িকা জৈসমিন সৈন্ডলস। তবে তার ক্যারিয়ারের শুরু ছিল একেবারে ভিন্ন। পঞ্জাবি পপ গান দিয়ে প্রথম সাড়া ফেলে তিনি। লুধিয়ানার এই গায়িকার নাম এখন সবার মুখে মুখে। তার সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে ছবিটি ‘ধুরন্ধর’। এই ছবির দুটি খণ্ডে একাধিক গান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তবে এই সফলতার পেছনে ছিল অনেক কঠিন সংগ্রাম, যেটি খুব কম মানুষ জানে।
জৈসমিনের পরিবার শুরুতে ভারতের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ভালোই কাটছিল, কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তার বাবা ভারত ছেড়ে আমেরিকায় চলে যান পরিবারের জন্য একটি ভালো জীবন তৈরি করতে। কিন্তু নিউইয়র্কে গিয়ে একেবারে বিপরীত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তারা। জৈসমিন বলেন, ‘‘আমরা যখন নিউইয়র্কে পৌঁছলাম, তখন ইংরেজি জানতাম না। আমার বাবা আমাদের স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করালেন, কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল।’’ সেখানে ছয় সদস্যের পরিবার এক বেডরুমের একটি ছোট ফ্ল্যাটে বসবাস করতে শুরু করে, যেখানে তাদের রেশন দোকান থেকে খাবার কিনে দিন কাটাতে হতো।
ভারতে অবস্থানকালে জৈসমিনের বাবা ছিলেন একজন আইনের ছাত্র এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু আমেরিকায় এসে তাকে সব কিছু ছেড়ে শুরু করতে হয়েছিল নতুন করে। তার প্রথম কাজ ছিল গ্যাস স্টেশনে পাম্প পরিচালনা করা। মা ছিলেন একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং চেরি তুলতেন। একেবারে শ্রমিক শ্রেণির কাজ। জৈসমিন বলেন, ‘‘আমার বাবার একটি ছবি আছে, যেখানে তিনি বরফে বসে আছেন, কিন্তু পায়ে জুতোও নেই। তিনি নিজের সুখ সব ত্যাগ করেছিলেন আমাদের জন্য।’’ এরকম পরিস্থিতি ছিল পুরো পরিবারের।
কিন্তু পরবর্তীতে জৈসমিনের বাবা ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে একটি আদালতে দোভাষীর কাজ পান। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। তবে এতসব সংগ্রামের মধ্যে জৈসমিনের শৈশবটা এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে কাটে। পরিবার থেকে একটু দূরত্ব তৈরি হয় এবং সেই সময়েই তিনি কিছু ভ্রান্ত পথে পা বাড়ান। তবে এরপর তিনি নিজের জীবনকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং সঙ্গীতের প্রতি তার ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ সদ্য জুটি বেঁধেই নজর কাড়ছেন স্বস্তিকা-সৌম্যদীপ! প্রেমের গল্পে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা! ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’য় জুটির রসায়ন এখন থেকেই হিট! অপেক্ষায় দর্শক মহল, কবে শুরু হবে সম্প্রচার?
আজকের দিনে, যিনি একসময় আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতেন, আজ তিনি ভারতের সবচেয়ে সফল গায়িকাদের মধ্যে একজন। জৈসমিন বলেন, ‘‘আমার বাবা-মায়ের সংগ্রামই আজ আমার সাফল্যের কারণ। তাদের কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’’ এই সংগ্রামের গল্প থেকেই তার জীবনের সত্যিকার অর্থের উপলব্ধি আসে। এখন তিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের জীবন বদলাতে পেরেছেন।
