খুব সম্প্রতি জি ৫ প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে সিরিজ কালিপটকা। এই সিরিজে একেবারে ভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। বরাবরই ছকভাঙা চরিত্রে অভিনয় করতে স্বচ্ছন্দ এই অভিনেত্রী, আর সেই মানসিকতা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও স্পষ্ট। যেখানে তাঁর সমসাময়িক অনেক অভিনেত্রী বয়স আড়াল করতে ব্যস্ত, সেখানে স্বস্তিকা অনায়াসেই বয়স নিয়ে কথা বলেন। সাজগোজের চাকচিক্য নয়, বরং নিজের মতো করে বাঁচাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত জীবন হোক বা সম্পর্ক, সব বিষয়েই অকপট স্বস্তিকা।
স্বস্তিকার প্রেম জীবন বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে। একসময় একাধিক তারকার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই মুহূর্তে তিনি সিঙ্গল নাকি নতুন কোনও সম্পর্কে রয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেম জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী। স্বস্তিকার কথায়, এখন শীতের মরশুম, প্রেমের মরশুম, তাই প্রেমহীন জীবন কাটানোর কোনও কারণ নেই। তবে এখন তিনি অনেক বেশি সচেতন, ফলে কেউ সহজে বুঝতেই পারবে না তিনি কার সঙ্গে প্রেম করছেন।
স্বস্তিকার বক্তব্য আরও চমকপ্রদ। অভিনেত্রী বলেন, প্রেম যে শুধুমাত্র একজনের সঙ্গেই করতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। তাঁর মতে, একসঙ্গে দু তিনজনের সঙ্গে প্রেম করাও অসম্ভব নয়। যদিও সেই প্রেমিকদের নাম প্রকাশ্যে আনতে একেবারেই রাজি নন তিনি। বরং কৌশলে বিষয়টি আড়াল করতেই বেশি পছন্দ করেন। স্বস্তিকার কথায়, তিনি একসঙ্গে তিন চারজনের সঙ্গে বাইরে বেরোন, তাই বোঝার উপায় থাকে না আসলে কার সঙ্গে তাঁর প্রেম।
অভিনেত্রী আরও জানান, কাজের চাপে তিনি ভীষণ ব্যস্ত মানুষ। ফলে যখন সময় পান, তখন যার সঙ্গে সময় মেলে তার সঙ্গেই বেরিয়ে পড়েন। তাঁর কাছে প্রেম মানে কোনও বাধ্যবাধকতা নয়। সারাজীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি ছাড়াও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেম সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। এমন সম্পর্কেই মন ভাল থাকে বলে মত স্বস্তিকার। তবে একটা বিষয়ে তিনি স্পষ্ট, তিনি কার সঙ্গে প্রেম করছেন, সেটা জানার সুযোগ কাউকেই দেবেন না।
আরও পড়ুনঃ “শুধু আমার দিকে তাকাবে, ইনসিকিউর হলেই…” ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর গুণাবলি নিয়ে স্পষ্ট ভাবনা তুলে ধরলেন সৌমিতৃষা কুন্ডু! তবে কি এবার খুঁজে পেয়েছেন তিনি সেই সঠিক মানুষকে? অভিনেত্রীর মনের মানুষ কে?
যদিও প্রেমিকদের নাম গোপন রাখছেন, তবুও স্বস্তিকার নতুন ক্রাশের কথা আর অজানা নেই। অভিনেত্রী নিজেই একাধিকবার স্বীকার করেছেন, অনির্বাণ চক্রবর্তী তাঁর ক্রাশ। গত বছর অনির্বাণের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে এরপর পরপর দুটি প্রোজেক্টে অনির্বাণের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পেয়েছেন স্বস্তিকা। পেশাগত রসায়ন থেকে ব্যক্তিগত পছন্দ, সব মিলিয়ে স্বস্তিকার জীবন এখন নিজের শর্তেই এগোচ্ছে, আর সেখানেই তিনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ।
