ছোটপর্দার শিল্পী হোক বা বড়পর্দার, মঞ্চ অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থাপনা দেখে যতটা ঝলমলে বাইরে থেকে মনে হয়, ভেতরে ততটাই অনিশ্চয়তা লুকিয়ে থাকে! আর এই কথাই যেন আবার সামনে এল সাম্প্রতিক একের পর এক ঘটনার পর। বনগাঁর একটি রাতের অনুষ্ঠানে দেরিতে পৌঁছনোকে কেন্দ্র করে টলি অভিনেত্রী ‘মিমি চক্রবর্তী’কে (Mimi Chakraborty) যে পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানান স্তরে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি নিয়েই এবার নিজের মত জানালেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী ‘দেবাদৃতা বসু’ (Debadrita Basu)।
অভিনেত্রী মঞ্চের অভিজ্ঞতা থেকে বাস্তব দিকগুলোকে আলাদা করে তুলে ধরেছেন। দেবাদৃতার মতে, মঞ্চের অনুষ্ঠান মানেই শুধু শিল্পীর উপস্থিতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়, অনুমতি, দর্শকের প্রত্যাশা মিলিয়ে একটা বড় আয়োজন। বিশেষ করে এখন অনেক জায়গায় রাত ১২টার পর অনুষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকে। ফলে একজন শিল্পী দেরি করলে তা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, আয়োজক থেকে দর্শক সবাই প্রভাবিত হন।
এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই তিনি সময়মতো পৌঁছনোর চেষ্টা করেন বলে জানান। তবে বিষয়টির আরও একটি দিকও তিনি এড়িয়ে যাননি। শহরের বাইরের অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক সময় দর্শকের উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কেউ খুব কাছে আসতে চান, কেউ ছবি তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত পরিসর ভেঙে ফেলেন! নিঃসন্দেহে এসব পরিস্থিতি শিল্পীদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। দেবাদৃতা বলেন, তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও, পরিস্থিতি যতটা সম্ভব শান্তভাবে সামলানোর চেষ্টা করেন।
যাতে কাউকে অসম্মানিত না করতে হয় বা অনিচ্ছাকৃত কাউকে আঘাত না করে ফেলেন যেটা ভবিষ্যতে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এই প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এর আগেও বিভিন্ন শিল্পী মঞ্চে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। কখনও অযৌক্তিক আবদার, কখনও বিশৃঙ্খল পরিবেশের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। মিমির সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও সেই বড় ছবিরই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ “ঘেটে রয়েছি, মন মেজাজ খারাপ…রাতে শেষ কবে ঠিকমতো ঘুমিয়েছি মনে পড়ে না!” অনামিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ জল্পনার পর, ফের অশান্তির কথা প্রকাশ্যে আনলেন উদয়! পর্দার আড়ালে, কী চলছে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনে?
যেখানে শিল্পী এবং দর্শকের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা দেবাদৃতার বক্তব্যে একটা স্পষ্ট বার্তা রয়েছে যে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে দায়িত্ব দুই দিকেই। আয়োজকদের উপর দায় চাপিয়ে যেমন শিল্পী দোষ এড়াতে পারেন না, উল্টো দিকেও একই হওয়া দরকার। শিল্পীর যেমন পেশাদারিত্ব দেখানো জরুরি, তেমনই আয়োজক এবং দর্শকদেরও কিছু সীমারেখা মানা দরকার। মঞ্চে যা দেখা যায়, তার আড়ালে অনেক চাপ, হিসাব আর সতর্কতা কাজ করে, এই কথাটাই যেন আবার মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
