ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব সরকার বদলের পর প্রথমবার সরাসরি দলের ভেতরের বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনবার ঘাটাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়া হলেও কার্যত কোনও কাজ হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য মানুষকে বারবার আশ্বাস দিতে গিয়ে নিজেকে মিথ্যে বলার অবস্থায় পড়তে হয়েছে। দেবের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেব স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না চাওয়ার কারণ মূলত এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন না হওয়াই। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের শেষ বক্তব্যেও তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটে দাঁড়াতে তার ইচ্ছা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর মানুষের সামনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। পরে রাজ্য সরকারের কাজ শুরু করার আশ্বাস পেয়ে তিনি আবারও প্রার্থী হতে রাজি হন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ঘাটাল এলাকার বন্যা সমস্যার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রতি বর্ষায় এই এলাকা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা সমাধানের জন্য ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। দেবের অভিযোগ, শুধু তিনি নয়, পুরো ঘাটালের মানুষকেই এই ইস্যুতে ভুল বোঝানো হয়েছে। তার এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীরা তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের আভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে এসেছে।
শুধু ঘাটাল নয়, রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের একাধিক নেতা দলীয় কৌশল এবং নেতৃত্বের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাধান্য এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনা মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেবের মন্তব্য দলের ভিতরে অস্থিরতা এবং নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, দেবের এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত হতাশার প্রকাশ নয়, বরং দলের সামগ্রিক ভবিষ্যত এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরমহলে জমে থাকা অসন্তোষ এবং বাস্তবায়িত না হওয়া প্রকল্পের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। ঘাটালের এই জনপ্রিয় সাংসদের কথা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তৃণমূলের ভিতরে চলমান অশান্তি আরও চোখে পড়ার মতো করে তুলেছে।
