বিনোদন জগতে এমন বহু তারকা রয়েছেন, যাঁরা একসময় দর্শকদের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের জনপ্রিয়তা, অভিনয় দক্ষতা এবং পর্দার উপস্থিতি দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই স্বেচ্ছায় আলো-আড়ালের জীবন বেছে নিয়েছেন। কেউ পরিবারকে সময় দিতে চেয়েছেন, কেউ আবার নিজের পছন্দের অন্য কোনও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করেছেন। ফলে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁদের আর নিয়মিত দেখা না গেলেও দর্শকদের স্মৃতিতে তাঁদের জায়গা আজও অটুট। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি বসুও সেই তালিকারই একটি উল্লেখযোগ্য নাম।
এক সময় জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘রাশি’-তে অপলা রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন ডলি বসু। খলনায়িকার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে ধারাবাহিক শেষ হওয়ার বহু বছর পরেও মানুষ তাঁকে ‘অপলা’ নামেই বেশি চিনে থাকেন। তাঁর সংলাপ, অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের উপস্থাপনা বাংলা ধারাবাহিকের দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। শুধু ‘রাশি’ নয়, বাংলা টেলিভিশনের একাধিক ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
টেলিভিশনের পর্দা থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও ডলি বসুর জনপ্রিয়তায় কোনও ভাটা পড়েনি। এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা জনসমক্ষে গেলে দর্শকরা তাঁকে চিনতে পারেন এবং তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে অপলা চরিত্রটি তাঁকে যে পরিচিতি এনে দিয়েছে, তা আজও অমলিন। বহু দর্শক এখনও মনে করেন, বাংলা ধারাবাহিকের অন্যতম শক্তিশালী খলচরিত্রগুলির মধ্যে অপলা অন্যতম। এই ভালোবাসা এবং স্বীকৃতিকে অভিনেত্রীও অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাছে দর্শকের ভালোবাসার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ডলি বসু খোলাখুলি জানিয়েছেন, কেন তিনি টেলিভিশন থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, বর্তমান সময়ের বহু ধারাবাহিকের গল্প তাঁর কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় না। বিশেষ করে একই ধরনের সম্পর্কভিত্তিক গল্প বা এক নায়ককে কেন্দ্র করে একাধিক নারীর ঘোরাফেরা এই ধরনের বিষয়বস্তু তাঁর পছন্দ নয়। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পী হিসেবে কাজের মধ্যে সৃজনশীল তৃপ্তি না থাকলে শুধু পর্দায় থাকার জন্য অভিনয় করার কোনও অর্থ নেই। তাই নিজের পছন্দ এবং বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করতে তিনি রাজি নন।
আরও পড়ুনঃ অনীক দত্ত ও সায়নী চক্রবর্তীর মৃ’ত্যুর শোকের আবহেই ‘পরিণীতা’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রীর আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা! প্রেমে ব্যর্থতা, কাজের অনিশ্চয়তা নাকি মানসিক অবসাদ, কোন কারণে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করলে দীর্ঘ সময় স্টুডিওকেন্দ্রিক জীবন কাটাতে হয়, যা তাঁর বর্তমান জীবনদর্শনের সঙ্গে মেলে না। বর্তমানে তিনি নিজের থিয়েটার গ্রুপ ‘চুপকথা’-র কাজ নিয়েই ব্যস্ত। শিশুদের নাটক শেখানো, নতুন প্রজন্মকে মঞ্চনাটকের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং নাট্যচর্চার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন প্রকৃত আনন্দ। সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে একাকীত্ব নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত ভালো আছেন এবং নিজের পছন্দের কাজ নিয়েই সুখে সময় কাটাচ্ছেন। টেলিভিশনের ঝলমলে দুনিয়া থেকে দূরে থাকলেও সৃজনশীলতার যে আনন্দ তিনি থিয়েটারের মাধ্যমে পাচ্ছেন, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
