জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ইসলামপুরের আলুপট্টি থেকে সারেগামাপার ফাইনাল মঞ্চে! আয়ুষ গুপ্তার সাফল্যে গর্বিত গোটা উত্তরবঙ্গ! তার কন্ঠের জাদুতে মুগ্ধ সকলে! তবে কি সেরার মুকুট মাথায় উঠছে তারই? জেনে নিন ভেতরের খবর!

জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’-র চলতি মরশুমে সবচেয়ে বেশি চর্চিত প্রতিযোগীদের মধ্যে অন্যতম আয়ুষ গুপ্তা। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর শহরের আলুপট্টির বাসিন্দা এই তরুণ গত কয়েক মাস ধরে নিজের গানের দক্ষতা দিয়ে বিচারক থেকে দর্শক, সকলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পথ অতিক্রম করে এখন তিনি পৌঁছে গিয়েছেন ফাইনালের মঞ্চে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সাফল্য নিয়ে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস বেড়েছে পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকার মানুষের মধ্যেই। অনেকের আশা, এই মরশুমের খেতাবও হয়তো উঠতে পারে ইসলামপুরের এই ছেলের হাতেই।

আয়ুষের এই যাত্রাপথ মোটেই সহজ ছিল না। ছোট শহরের একটি সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া এই তরুণ পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই গানের চর্চা করে এসেছে। সুযোগ পেলেই গান নিয়ে সময় কাটাত সে। তবে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তাকে নানা ধরনের মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, শুধুমাত্র গান গেয়ে ভবিষ্যতে কী হবে। কিন্তু সেইসব সংশয়কে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্যেই স্থির থেকেছে আয়ুষ। আজ সারেগামাপার ফাইনালে পৌঁছে সে যেন নিজের কাজের মাধ্যমেই সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।

ছেলের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত তাঁর মা রেখা দেবীও। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আয়ুষের আলাদা টান ছিল। পরিবার সবসময় চেষ্টা করেছে তার স্বপ্নের পাশে থাকার। তাঁর কথায়, “ছোট থেকেই ওর গানের প্রতি একটা অন্যরকম টান ছিল। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি ওর পাশে থাকার। আজ ওকে ফাইনালে দেখতে পেয়ে খুব ভাল লাগছে। আমার একটাই প্রার্থনা, ও যেন আরও বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে এবং মানুষের ভালবাসা পেতে থাকে।” ছেলের সাফল্যে মায়ের গলায় যেমন আনন্দ, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও স্পষ্ট।

অন্যদিকে আয়ুষের বাবা মনোজ গুপ্তাও ছেলের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, গান এবং পড়াশোনা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছে আয়ুষ। তিনি বলেন, “আয়ুষ কখনও শুধু গান নয়, পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগ দিয়েছে। নিজের পরিশ্রম আর একাগ্রতার জোরেই আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। একজন বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। ও যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়, সেটাই চাই।” ছেলের অর্জনে তাঁর গর্বের পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার কথাও উঠে এসেছে এই বক্তব্যে।

আয়ুষ গুপ্তার সাফল্য এখন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প নয়। ইসলামপুরের মতো শহর থেকে উঠে এসে রাজ্যজুড়ে পরিচিতি পাওয়া অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করেছে, বড় শহরে না থাকলেও প্রতিভা এবং পরিশ্রম থাকলে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তাই এখন শুধু পরিবার নয়, গোটা ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর এবং উত্তরবঙ্গের বহু মানুষ অপেক্ষা করছেন সেই বিশেষ মুহূর্তের জন্য, যখন সারেগামাপার মঞ্চে আয়ুষের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page