ছোটপর্দায় একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক উপহার দেওয়ার পর ফের নতুন চ্যালেঞ্জে নেমেছেন পল্লবী শর্মা। এই মুহূর্তে তাঁকে দেখা যাচ্ছে তারে ধরি ধরি মনে করি ধারাবাহিকে, যেখানে গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে পুনর্জন্মের রহস্য আর আবেগের জটিল মিশেল। শুরু হয়েছে প্রায় আড়াই মাস, কিন্তু প্রত্যাশিত টিআরপি এখনও ধরা দেয়নি। তা নিয়ে কি চিন্তায় অভিনেত্রী? দর্শকমহলে ইতিমধ্যেই উঠেছে প্রশ্ন, পুনর্জন্মের মতো জটিল কাহিনি কি সকলের কাছে সহজবোধ্য হচ্ছে না। নাকি প্রচলিত পারিবারিক দ্বন্দ্বের বাইরে বেরিয়ে আসার সাহসই কিছুটা ধাক্কা দিচ্ছে এই ধারাবাহিককে। কৌতূহল বাড়ছে, উত্তর খুঁজছেন অনুরাগীরাও।
পল্লবীর কেরিয়ারের শুরুটা ছিল কে আপন কে পর ধারাবাহিক দিয়ে, যা টানা চার বছরেরও বেশি সময় দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিল। পরে নিমফুলের মধু ধারাবাহিকেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং দীর্ঘ সময় সম্প্রচারিত হয় সেই কাহিনি। ফলে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক সফল কাজের অভিজ্ঞতা। সেই জায়গা থেকে নতুন গল্পের এই তুলনামূলক ধীর সাড়া স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনায় এসেছে। তবে অভিনেত্রীর মতে, প্রতিটি গল্পের নিজস্ব গতি থাকে এবং সব কাহিনি এক মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না। নতুন ধারার গল্পকে জায়গা করে নিতে সময় লাগতেই পারে।
এই ধারাবাহিকে নেই চিরচেনা শাশুড়ি বৌমার দ্বন্দ্ব কিংবা ত্রিকোণ প্রেমের নাটকীয়তা। বরং পল্লবীকেই দেখা যাচ্ছে চার রকম ভিন্ন চরিত্রে, দুই জন্মের আবেগ আর অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে কাহিনির বুনন। তাঁর কথায়, এটি একপ্রকার পরীক্ষামূলক প্রয়াস, যেখানে গল্প বলার ধরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে। দর্শক অনেক সময় ঘরের কাজ করতে করতেও সিরিয়াল দেখেন, ফলে সূক্ষ্ম দিকগুলো চোখ এড়িয়ে যেতে পারে বলেই মনে করেন তিনি। একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে গল্পের স্তরগুলো স্পষ্ট হবে, এমনটাই বিশ্বাস পল্লবীর।
তবে শেষ কথা বলে টিআরপি, এ বাস্তবতা অস্বীকার করেন না অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানালেন, টিআরপি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা প্রয়োজনও। কিন্তু সেই অঙ্ক পুরোপুরি শিল্পীর হাতে থাকে না। তাঁর দায়িত্ব চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা, দর্শকের অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। ওঠানামার হিসাব প্রযোজনা সংস্থা কিংবা চ্যানেলের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তাই সংখ্যার চাপে সৃজনশীলতা হারাতে চান না পল্লবী। বরং নিজের অভিনয়কে আরও নিখুঁত করে তোলার দিকেই নজর রাখছেন।
আরও পড়ুনঃ তরুণ প্রেমের গল্পকে ছাপিয়ে, দর্শকের হৃদয় জিতছে, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’তে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের ‘সিঙ্গল ফাদার’ চরিত্র! বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের আবেগে মনমুগ্ধ দর্শক!
সফল ধারাবাহিকের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন গল্পের এই পথচলা সহজ নয়, তা জানেন তিনি। তবু চ্যালেঞ্জ গ্রহণেই আনন্দ খুঁজে পান পল্লবী। প্রচলিত ফর্মুলা ভেঙে অন্য স্বাদের গল্প বলার চেষ্টা যদি সময় নেয়, তাতেও তাঁর আপত্তি নেই। দর্শক ধীরে ধীরে গল্পের গভীরে ডুব দেবেন, এমন আশাই রাখছেন অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত সংখ্যার অঙ্ক নয়, গল্প আর চরিত্রের সততাই হয়ে উঠুক আসল সাফল্য, এই বিশ্বাস নিয়েই এগোতে চান তিনি।
