টলিউডে রাজনৈতিক ঘরানার ছবি খুব বেশি তৈরি হয় না, অথচ সেই শূন্যতার মাঝেই পরিচালক দুলাল দে নিয়ে আসছেন নতুন ছবি ফাঁদ। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ইশা সাহা, তাঁর সঙ্গে পর্দা ভাগ করছেন অর্জুন চক্রবর্তী ও সুহোত্র মুখোপাধ্যায়। ছবির ঘোষণার দিনই ইশা স্পষ্ট করে জানান, বাংলার দর্শক রাজনৈতিক গল্পের সঙ্গে আবেগের বন্ধন গড়তে পারেননি বলেই হয়তো এই ধরনের ছবির সংখ্যা কম। তবু এই ছবির চিত্রনাট্য তাঁর শৈশব ও কলেজ জীবনের স্মৃতিকে যেন নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
ইশা মনে করেন রাজনৈতিক সিনেমা তৈরি হওয়া জরুরি, কারণ সমাজের বাস্তবতা সেখানে প্রতিফলিত হয়। তিনি আগে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কমেডি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর উপলব্ধি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর কথায়, দর্শক যখন গল্পে নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান তখনই ছবি মনে দাগ কাটে। ফাঁদ ছবির বিষয়বস্তু এবং চরিত্রের গভীরতা তাঁকে ভীষণভাবে টেনেছে, তাই এই প্রজেক্ট তাঁর কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে।
আইনজীবী থেকে অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পথটি সহজ ছিল না, কিন্তু এই দুই পেশার মধ্যে তিনি একটি মিল খুঁজে পান। ইশার মতে রাজনীতি এমন একটি বিষয় যা জীবনের প্রতিটি স্তরে উপস্থিত। সংসার, বন্ধুত্ব, কর্মক্ষেত্র সর্বত্র এর ছায়া রয়েছে। আদালতে কাজ করার সময় তিনি মানুষের সম্পর্কের ভেতরের টানাপোড়েন খুব কাছ থেকে দেখেছেন, যা তাঁকে বাস্তব সম্পর্কে আরও সচেতন করেছে এবং অভিনয়ের ক্ষেত্রেও সাহায্য করেছে।
টলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইশা বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। বরং অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলেছেন, ভাই বোনের সম্পর্কেও যখন মতভেদ থাকে তখন বিনোদন জগত আলাদা হবে কেন। তাঁর অভিজ্ঞতায় মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা, প্রতিযোগিতা ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই পরিস্থিতির জন্ম হয়। তবে তিনি এটাও মনে করেন, সমস্যা যত বড়ই হোক কথোপকথনের মাধ্যমে অনেক জট খুলে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুখবর! প্রেম দিবসে জি বাংলার বিশেষ ঘোষণা! নতুন ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন শ্বেতা ভট্টাচার্যের! রচনার পরিবর্তে এবার থেকে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’এ থাকবে তিনি? রয়েছে আর কি বিশেষ চমক?
ইশার কথায় হতাশার পাশাপাশি আশার সুরও স্পষ্ট। তিনি বিশ্বাস করেন শিল্প জগৎ শেষ পর্যন্ত সৃজনশীলতার জায়গা, তাই বিরোধ থাকলেও সমাধানের পথ বন্ধ নয়। টলিউডে যে নানা আলোচনা ও মতপার্থক্য চলছে তা একদিন সুস্থ সংলাপের মাধ্যমেই মিটে যাবে বলে তাঁর আস্থা। অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন সচেতন মানুষ হিসেবেই তিনি চান কাজের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও সহানুভূতিশীল হোক।
