টলিউডের অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হয়েছে আজ। তার মৃত্যু নিয়ে আজও নানা বিতর্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিল্পীরা। অভিনেতা জিতু কমল, যিনি রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই তার ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার, এবার আবারও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে এক দিকে সবাই আঙুলে কালি লাগিয়ে ছবি পোস্ট করতে ব্যস্ত, অন্যদিকে জিতু কমল স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রাহুলের মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হওয়া নিয়ে। তিনি এ দিন বলেন, “মৃত্যুর পরই আত্মীয়দের উত্থান দেখে আমি চমকে গিয়েছিলাম।”
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘটে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক “ভোলে বাবা পার করেগা”-এর শ্যুটিং চলাকালীন সমুদ্রে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। এ ঘটনায় শোয়ের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অবহেলা এবং অনুমতি না নিয়ে শ্যুটিং করার অভিযোগ উঠেছিল। রাহুলের মৃত্যু পর, তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়েই জিতু কমল প্রথমে আর্টিস্ট ফোরামের কাছে অভিযোগ করেন যে, অসুস্থ অবস্থায় তাকে শ্যুটিং করানো হয়েছিল এবং বিশ্রামের জন্য ছুটি দিতে রাজি হয়নি প্রযোজনা সংস্থা।
জিতু কমল মৃত্যুর পরপরই রাহুলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। তিনি আরও জানান, তার প্রতিবাদে অনেকেই বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু তিনি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আজ, রাহুলের মৃত্যু এক মাস পর, তার ফেসবুক পোস্টে তিনি আবারও বলেন, “মৃত্যুর পর আপনারা কেমন করে একে একে আত্মীয় হয়ে উঠলেন! জীবিত অবস্থায় কোথায় ছিলেন?” জিতুর এই মন্তব্যে তিনি সমাজের সেই দিকটি তুলে ধরেছেন, যেখানে মৃতের প্রতি সহানুভূতির স্রোত চলে আসে, কিন্তু জীবিত অবস্থায় কেউ এগিয়ে আসেন না।
জিতু তার পোস্টে আরও লেখেন, “মৃত্যু না হলে আপনি হাল ছাড়তেন না, তাও তো স্পষ্ট জানাচ্ছেন আপনারাই।” তিনি রাহুলের ছবি সংরক্ষণ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন, যেখানে তিনি বলেন, “রাহুলদার ছবি প্রথমে গাছতলায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, পরে সেটা আবার অফিসে রাখা হয়েছে। আমি এখানে নিজের প্রতিবাদকে স্বীকৃতি দিতে চাই।” এই কথা তিনি আর্টিস্ট ফোরামের অফিসের একটি ঘটনায় সম্পর্কিতভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাহুলের ছবির বিষয়ে এক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এই সব কিছুর মাঝে, জিতু কমল গণতন্ত্রের উৎসবের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আজ তো আবার আঙুলে কালি লাগানোর দিন, গণতন্ত্রের উৎসব। সেই দেশে আমি বাস করি, যেখানে আমার প্রতিবাদ করার সময় ঠিক করতে আপনাদের অনুমতি নিতে হয়!” এই মন্তব্যে জিতু আবারও সমাজের উপর আঘাত হেনেছেন, যেখানে একজন ব্যক্তিকে তার প্রতিবাদের সময় ও পন্থা নির্ধারণের স্বাধীনতা দেওয়া হয় না। এই প্রতিবাদেও তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যে, গণতন্ত্রের নামেও কিছু সত্য যেন চাপা পড়ে যায়।
