জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্পে একের পর এক নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ঝিনুক ও সম্রাটের সংসারে আবারও অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছে সম্রাটের অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা। রাজুকে নিজের হাতে মিষ্টি খাইয়ে দেওয়াটাই যেন সম্রাটের কাছে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ি ফেরার পর ঝিনুকের উপর চড়াও হয় সে। ঝিনুক বোঝানোর চেষ্টা করে, রাজুকে সে নিজের দাদার মতোই মনে করে। ছোটবেলা থেকে প্রায় ২৫ বছর গুহ পরিবারের সঙ্গে থাকার পর হঠাৎ করে তাঁদের থেকে দূরত্ব তৈরি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এতদিন পর পরিবারের মানুষদের কাছে পেয়ে আনন্দে সে রাজুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছে, কিন্তু সম্রাটের আচরণে সেই আনন্দই মুহূর্তে অস্বস্তিতে বদলে যায়।
সম্রাটের এই আচরণ শুধু সাময়িক রাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তার মানসিক অবস্থাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ঝিনুকের সঙ্গে অন্য কারও স্বাভাবিক যোগাযোগও সে সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। এমনকি ঝিনুক কারও সঙ্গে কথা বলুক বা মেলামেশা করুক, সেটাও সম্রাটের পছন্দ নয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে সম্রাট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং জ্বর আসে। বাড়িতে চিকিৎসককে ডাকা হলে পরীক্ষা করার পর তিনি জানান, সম্রাটের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। একইসঙ্গে ঝিনুকও যে এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, সেটাও চিকিৎসকের নজর এড়ায় না। তবে চিকিৎসকের উপস্থিতিতেও সম্রাটের নজর যেন সবসময় ঝিনুকের উপরেই আটকে থাকে।
এদিকে গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে শ্রীনিবাসকে ঘিরে। শ্রীনিবাসের কর্মক্ষেত্র থেকে লোকজন এসে কমলার কাছে জানতে চায়, সে কেন কাজে যাচ্ছে না। সেই কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে যায় কমলা। এতদিন শ্রীনিবাসকে নিয়ে সে যে ধারণা করে এসেছে, আচমকা সেই ধারণার মধ্যেই ফাটল ধরতে শুরু করে। আসলে শ্রীনিবাসের কাজকর্ম এবং তার সাম্প্রতিক গতিবিধির মধ্যে কোথাও একটা অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন কমলাকে ভাবাচ্ছে। তাই আর অপেক্ষা না করে শ্রীনিবাসের পুরনো অফিসে নিজেই খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আগামী পর্বে কমলার এই অনুসন্ধান থেকেই শ্রীনিবাসকে ঘিরে থাকা রহস্যের কোনও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার।
অন্যদিকে, পল্লবীর জীবনেও নতুন করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। মন্দিরে যাওয়ার সময় আচমকাই আদিত্যর ঠাকুমার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত হলেও, ঠাকুমা পল্লবীকে একেবারেই ছেড়ে কথা বলেননি। প্রকাশ্যেই তাঁকে কটু কথা শুনিয়ে অপমান করেন তিনি। ফলে পল্লবীর সঙ্গে আদির পরিবারের দূরত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে কমলা যখন শ্রীনিবাসের সত্যিটা জানার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে পল্লবীকে ঘিরেও নতুন করে পারিবারিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আত’ঙ্কে হাত-পা কাঁপছিল’, রাতের কলকাতায় ভয়’ঙ্কর বি’পদে ‘বাঘিনী’র নায়িকা! প্রাণভ’য়ে কী করলেন সম্পিতা? কী ঘটল নায়িকার সঙ্গে?
সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর পরবর্তী পর্বে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গল্প এগোতে চলেছে। ঝিনুক-সম্রাটের সম্পর্কে সম্রাটের অসুস্থতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নতুন মোড় আনতে পারে। অন্যদিকে শ্রীনিবাসের কর্মক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কমলার সন্দেহ আরও বাড়ছে এবং সেই কারণেই সে পুরনো অফিসে পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি পল্লবী ও আদিত্যর ঠাকুমার ঘটনাও সম্পর্কের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ একদিকে ঝিনুকের সংসারে সম্রাটের সন্দেহ ও মানসিক সমস্যা, অন্যদিকে শ্রীনিবাসকে ঘিরে কমলার অনুসন্ধান, দুটি গল্পই এখন কোন দিকে যায়, সেটাই ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
