বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘কথা ছিল হেঁটে যাব ছায়াপথ’। সন্ধ্যা ৬টা থেকেই অতিথিদের স্বাগত জানাতে ব্যস্ত ছিলেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক, যিনি এই নাটকের অন্যতম প্রযোজক। নাটকটির মঞ্চ, নির্দেশনা, আবহ ও পোশাকের দায়িত্ব সামলেছেন ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান ঘিরে সাংস্কৃতিক মহলে ছিল উৎসবের আবহ।
নাটক দেখতে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, এটি নৈহাটির নাট্যদল বাংলা অপেরার প্রযোজনা হওয়ায় তাঁর আলাদা টান রয়েছে। বহু বছর আগে অ্যাকাডেমিতে আসার স্মৃতিও ভাগ করে নেন তিনি। তাঁর কথায়, একসময় বাংলা নাটকের অন্যতম কেন্দ্র ছিল পশ্চিমবঙ্গ। বর্তমানে ভালো পরিকাঠামোর অভাব থাকলেও দর্শকদের টিকিট কেটে নাটক দেখেই এই শিল্পমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দেন জগদ্দলের বিধায়ক ড. রাজেশ কুমারও। নাটক শুরুর আগে পার্থ ভৌমিক, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও রাজেশ কুমারকে একসঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি দর্শকদেরও নজর কেড়েছে। নাটককে ঘিরে অতিথিদের মধ্যে ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।
শুধু জনপ্রতিনিধিরাই নন, টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখও এদিন দর্শকাসনে ছিলেন। প্রযোজক রাণা সরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তসহ অনেকেই নাটক উপভোগ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে রাজনীতির বিভিন্ন পরিচিত মুখের মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে অ্যাকাডেমি।
এদিন নাটক দেখতে এসেছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীও। তিনি জানান, অনেকদিন পর অ্যাকাডেমিতে নাটক দেখতে এলেন। পার্থ ভৌমিক ও সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কৌস্তভের কথায়, গান, নাটক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। ব্যারাকপুরে একটি সঙ্গীত উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে একসঙ্গে দেখা উচিত নয়, দুটির নিজস্ব আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
