জি বাংলার ধারাবাহিক ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’-য় দুর্গাবতী চরিত্রে মধুরিমা গোস্বামীর অভিনয় নিয়ে শুরুতে কিন্তু একেবারেই একমত ছিলেন না দর্শকরা। প্রথম দিকে তাঁর লুক, সাজপোশাক থেকে শুরু করে চরিত্রের উপস্থাপনা, কিছুই সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি। অনেকেরই মনে হয়েছিল, এতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং দাপুটে একটি চরিত্রের জন্য যে ধরনের ব্যক্তিত্ব বা তেজ প্রয়োজন, মধুরিমার মধ্যে তার প্রকাশ এখনও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। এমনকি তাঁর চেহারা নিয়েও সমাজ মাধ্যমে নানান ধরনের মন্তব্য করেছিলেন দর্শকদের একাংশ। ফলে প্রথম সিরিয়ালেই মধুরিমা যে দুর্গাবতী মা ঠাকুরণের মতো শক্তিশালী চরিত্রে কতটা মানিয়ে উঠতে পারবেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই একটা প্রশ্ন ছিল।
তবে ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বগুলো সেই ধারণাটাই যেন অনেকটা বদলে দিয়েছে। গল্প যত এগিয়েছে, দুর্গাবতীর চরিত্রেও তত বেশি দৃঢ়তা এসেছে। অন্নপূর্ণার সঙ্গে তাঁর সংঘাত এখন গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে। নিজের অবস্থান থেকে অন্নপূর্ণার বিরুদ্ধে গিয়ে যে ভাবে দুর্গাবতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাতে চরিত্রটির প্রভাবও স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে অন্নপূর্ণার বাড়ি ও হোটেল হাতছাড়া হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আর তার পিছনে দুর্গাবতীর ভূমিকা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মায়ের এই অপমানের পর স্নেহা কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে, সেটিও এখন ধারাবাহিকের বড় প্রশ্ন।
এই পরিবর্তনটাই সম্ভবত দর্শকদের মত বদলানোর অন্যতম কারণ। যাঁরা শুরুতে মধুরিমার অভিনয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাঁদেরই একাংশ এখন স্বীকার করছেন যে অভিনেত্রী ধীরে ধীরে চরিত্রটার সঙ্গে নিজেকে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। দুর্গাবতীর কথাবার্তা, আচরণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃঢ়তা দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রথমদিকে যে চরিত্রটিকে অনেকের কাছে কিছুটা নিষ্প্রভ মনে হয়েছিল, সেটাই এখন গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখছে।
আসলে মধুরিমা গোস্বামীর এই যাত্রাটা খানিকটা আলাদাও। মঞ্চে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা মধুরিমা মূকাভিনয় শিল্পী নিরঞ্জন গোস্বামীর কন্যা এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ তাঁর প্রথম বাংলা মেগা সিরিয়াল। প্রথমে ধারাবাহিকে কাজ করার ব্যাপারে তাঁর খুব একটা আগ্রহ ছিল না বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। পরে প্রযোজনা সংস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে এবং কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ভালো কথা শুনেই রাজি হন। থিয়েটারের পাশাপাশি টেলিভিশনকে শিল্পীদের আর্থিক স্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করেন তিনি। এমনকি শুটিং শুরুর আগে স্বামী অনির্বাণের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ মানবিক রূপঙ্কর! ভাইরাল হতেই সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি হারান রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শোভন চক্রবর্তী! বড় সুযোগ দিলেন রূপঙ্কর বাগচী
সবচেয়ে মজার বিষয়, বাস্তবে মধুরিমা এবং সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায়ের বয়সের ব্যবধান খুব বেশি নয়, অথচ পর্দায় তিনি সৌম্যদীপের মা দুর্গাবতীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই বয়সের ফারাকও শুরুতে দর্শকদের নজর কেড়েছিল। কিন্তু এখন সেই আলোচনা অনেকটাই পিছনে চলে গিয়ে সামনে এসেছে তাঁর অভিনয়। গল্পে দুর্গাবতী যতটা কঠিন হয়ে উঠছেন, মধুরিমার অভিনয়ও যেন ধীরে ধীরে সেই চরিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠছে। তাই শুরুতে যাঁরা বলেছিলেন এই চরিত্রের জন্য তাঁর মধ্যে যথেষ্ট তেজ নেই, তাঁরাই এখন নিজেদের মত বদলে প্রশংসা করছেন। এখন দেখার, অন্নপূর্ণার বিরুদ্ধে দুর্গাবতীর এই লড়াই কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং আগামী দিনে মধুরিমার অভিনয় দর্শকদের আরও কতটা চমকে দিতে পারে।
