জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“নয়না গেছে ময়না এসেছে…সিরিয়ালে আর মা-কাকিমার রোল পাচ্ছে না তো তাই এখন দিদির বডিগার্ড হয়েছেন!” “আর জি কর কাণ্ডে এমন সক্রিয়তা দেখালে, অভয়া ন্যায় বিচার পেত” বারুইপুরকাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিছিলে প্রধান মুখ ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়! পালাবদলের পর ‘মমতার তৃণমূল’ দলের প্রতি অভিনেত্রীর সক্রিয়তা ঘিরে সমালোচনার ঝড় নেটপাড়ায়!

বারুইপুরের নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচার ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, কোনও কন্যার উপর আঘাত হলে তাঁরা আগেও প্রতিবাদে নেমেছেন, এখনও নামবেন এবং ভবিষ্যতেও নামবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, সেই সময়েও তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে ছিলেন। তাঁর কথায়, পরবর্তীকালে সেই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেই তাঁদের আপত্তি ছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, বারুইপুরের ঘটনায়ও দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে এই বক্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিবাদের ধরন এবং বর্তমান অবস্থানের মধ্যে কোনও পার্থক্য রয়েছে কি না।

সামাজিক মাধ্যমের একাংশে দেখা যায়, অনেকেই অভিনেত্রীর রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়েও নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। কেউ মনে করছেন, তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই মন্তব্য করেছেন। আবার অন্যদের বক্তব্য, যে কোনও অপরাধের ক্ষেত্রেই একই ধরনের অবস্থান এবং একই রকম প্রতিবাদ প্রত্যাশিত। তবে হঠাৎ করে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দল হওয়ার পরেই ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা নিয়ে এদিন মোমবাতি মিছিলের পর আবার একবার সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ বলছেন, “আর কোনও সিরিয়ালের মা-এর রোল পাচ্ছে না তো তাই মাথাটা একটু খারাপ হয়ে গেছে।”

অন্যজন বলছেন, “দিদির কি আর জি কর কথা মনে আছে, আর জি কর কাণ্ডে একই রকম ভাবে অভয়ার পাশে যদি থাকতো তাহলে আজ অভয়ার দোষীরা শাস্তি পেতে এবং অভয়ার ন্যায় বিচার পেত!” একজন বলছেন, “নয়না গেছে ময়না এসেছে। শুন্যস্থান বোধহয় এই ভাবেই পূরণ হয়।” অন্যজনের কথায়, “এই মহিলা সিরিয়াল ছেড়ে এখন বডিগার্ড এর কাজ পেয়েছে!” অন্যদিকে অনেকেই ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সমর্থনও করেছেন। তাঁদের মতে, কোনও নাবালিকার উপর নৃশংসতা হলে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিবাদ হওয়াই স্বাভাবিক। আবার অনেকে বলেছেন, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ছড়িয়ে পড়লে ভুল বোঝাবুঝিরও সুযোগ তৈরি হয়।

তাই পুরো বক্তব্য শুনে মত গঠন করা উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন কিছু নেটিজেন। ফলে সমর্থন এবং সমালোচনা, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বারুইপুরকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর বক্তব্য যেমন অনেকের সমর্থন পেয়েছে, তেমনই সামাজিক মাধ্যমের একাংশে প্রশ্নও উঠেছে তাঁর অবস্থান এবং রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিনেত্রী এই অনলাইন প্রতিক্রিয়াগুলির বিষয়ে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সামাজিক মাধ্যম জুড়ে এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page