জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘ধা’ক্কা মে’রে বের করে দেওয়া হয়েছিল, কলকাতা শহরে কাজ করতে দেয়নি’ রাজ্যে পালাবদলের হতেই মুখ খুললেন জাদুকর কন্যা মুমতাজ সরকার! তৃণমূলী অন্যা’য়ের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি!

টলিপাড়ায় দীর্ঘদিন কাজ করতে না পারার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন অভিনেত্রী মুমতাজ সরকার। বুধবার টালিগঞ্জের একটি স্টুডিয়োয় টেকনিশিয়ানদের সমস্যা ও অভিযোগ শুনতে পৌঁছেছিলেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির একাধিক কর্মী এবং শিল্পীরাও। অনেকেই তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, কাজের অভাব এবং অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। সেই মঞ্চেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুমতাজ। তিনি জানান, বহু বছর ধরে কাজ করলেও গত কয়েক বছরে তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুমতাজ বলেন, “আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি বলে, ব্যথা-বেদনা কম নয়। আমাকেও এখান থেকে ধাক্কা মারা হয়েছে, কলকাতা শহরে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।” অভিনেত্রী আরও জানান, তিনি ২০০৫ সাল থেকে অভিনয় জগতে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এত বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও শেষ কয়েক বছরে নিয়মিত কাজ পাননি। তাঁর কথায়, “যদিও আমি ২০০৫-এ কাজ শুরু করেছি। এখন ২০২৬। কিন্তু শেষ কয়েক বছর কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কাজ পারি, তা-ও কাজ পাইনি।” এই মন্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি মন দিয়ে শোনেন। পাপিয়া অধিকারীর দিকেও সাহায্যের আবেদন জানান অভিনেত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক মেকআপ শিল্পীও দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার কষ্টের কথা জানান। পরে আবার কাজে ফেরার আশ্বাস পেয়ে তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন মুমতাজ সরকার। অভিনেত্রীর বক্তব্যের পর পাপিয়া অধিকারী তাঁকে আশ্বাস দেন যে বিষয়টি তিনি দেখবেন। তবে কারা বা কোন পরিস্থিতির কারণে তিনি কাজ পাননি, তা স্পষ্ট করে বলেননি মুমতাজ। তবুও তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক যোগসূত্রের কারণে কোনও প্রভাব পড়েছিল কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুমতাজ সরকার জনপ্রিয় জাদুকর পি সি সরকারের মেয়ে। পি সি সরকার দীর্ঘদিন ধরেই গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০১৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে জয় পাননি তিনি। সেই সময় বাবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন তাঁর মেয়েরাও। তাই মুমতাজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁর কেরিয়ারে কোনও প্রভাব পড়েছিল কি না। যদিও এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি অভিনেত্রী।

পি সি সরকারের দুই মেয়ে মৌবনী সরকার এবং মুমতাজ সরকার, দু’জনেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একসময় তাঁদের টেলিভিশন ও বিনোদন জগতে নিয়মিত দেখা যেত। তবে বর্তমানে তাঁরা খুব বেশি কাজ করছেন না। কিছু মাস আগে মৌবনী সরকার ব্যক্তিগত জীবনের কারণে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। তাঁর বিয়ের খবর নিয়েও সেই সময় চর্চা হয়েছিল। আর এবার মুমতাজ সরকারের বিস্ফোরক মন্তব্য ফের টলিপাড়ার অন্দরমহলের পরিস্থিতিকে সামনে এনে দিল। তাঁর বক্তব্যের পর ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page