জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“উজির নয়, নিশার পুলিশ হওয়া উচিত ছিল…যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়াল!” সাধারণত বিপদের নায়িকাকে উদ্ধার করতে আগমন ঘটে নায়কের, সেই চেনা ছক ভেঙে নারীদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে ‘জোয়ার ভাঁটা’! শয়তানদের সামনে সাহসী প্রতিবাদ, শ্রুতি দাসের অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক! ‘নিশা যেন প্রতিটি মেয়ের শক্তির প্রতিচ্ছবি’, বলছেন অনুরাগীরা!

জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে নিশার দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। ধারাবাহিকের গল্পে বরাবরই নিশাকে নিজের পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব একজন নারী হিসেবে দেখা গিয়েছে। তবে এবারের পর্বে তাঁর প্রতিবাদের ধরন দর্শকদের মনে আরও গভীর ছাপ ফেলেছে। পরিস্থিতির সামনে ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে নিশা নিজেই অন্যায়কারীদের মুখোমুখি হয়েছে। যে পরিস্থিতিতে অনেক মেয়েই বাস্তব জীবনে সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারেন না, সেই জায়গাটিই যেন তুলে ধরা হয়েছে এই দৃশ্যে। ফলে নিশার চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেক দর্শক। শ্রুতি দাসের অভিনয়ও এই দৃশ্যকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে মত তাঁদের।

দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, বাংলা ধারাবাহিকের প্রচলিত গল্পে সাধারণত বিপদের সময় নায়িকাকে উদ্ধার করতে নায়কের আগমন দেখানো হয়। কিন্তু ‘জোয়ার ভাঁটা’র এই দৃশ্যে সেই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে অন্য ছবি দেখানো হয়েছে। এখানে নিশা নিজেই নিজের লড়াই লড়েছে এবং অন্যায়কারীদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছে। এমনকী, যারা অন্যায় করেছিল তাদের সামনে নিয়ে গিয়েই শাস্তি দেওয়ার দৃশ্যও দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে নিশার পাশে কোনও পুরুষ চরিত্রকে এনে তাঁকে উদ্ধার করার প্রয়োজন পড়েনি। বরং নিজের সাহস এবং দৃঢ়তার উপর ভরসা করেই নিশা পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। এই কারণেই দৃশ্যটি অনেকের কাছে শুধু ধারাবাহিকের একটি ঘটনা নয়, বরং প্রচলিত ধারণার বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা হয়ে উঠেছে।

নিশার এই অবস্থানকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে তাঁর সাহস। তাঁদের মতে, সমাজে এখনও এমন অনেক মেয়ে রয়েছেন যারা অন্যায়ের শিকার হলেও প্রতিবাদ করতে ভয় পান। কেউ সামাজিক চাপের কথা ভাবেন, কেউ আবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চুপ করে থাকেন। সেই সমস্ত মেয়েদের হয়ে যেন নিশাই এবার পর্দায় নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে। তাই দর্শকদের একাংশের কাছে নিশা শুধুমাত্র ধারাবাহিকের একটি চরিত্র হয়ে থাকেনি। তাঁদের চোখে সে হয়ে উঠেছে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা এক সাহসী নারীর প্রতিচ্ছবি। এই কারণেই শ্রুতি দাসের অভিনয় দেখে অনেকেই জানিয়েছেন, নিশার এমন দৃশ্য তাঁরা আরও দেখতে চান।

বিশেষ করে নিশার চরিত্রের মধ্যে শক্তিশালী নারীর যে দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, সেটিই দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে। একজন দর্শকের কথায়, এই দৃশ্যে নিশাকে যেন দেবী দুর্গার প্রতিচ্ছবি মনে হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর রুখে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার দৃশ্য তাঁদের মনে সেই প্রতীকী ভাবনাই তৈরি করেছে। তাঁদের মতে, একজন নারীকে সবসময় দুর্বল বা সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা চরিত্র হিসেবে দেখানোর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তিনিই নিজের লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে পারেন, সেটাই নিশার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। শ্রুতি দাসের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এই বার্তাটি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাই নিশার এই দৃশ্যকে ঘিরে প্রশংসার পাশাপাশি ধারাবাহিকের এই উপস্থাপনাকেও স্বাগত জানাচ্ছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে ‘জোয়ার ভাঁটা’র এই পর্বে নিশাকে ঘিরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের মতো করে লড়াই করার যে মানসিকতা তাঁর চরিত্রে দেখা গিয়েছে, সেটিই প্রশংসা কুড়িয়েছে। দর্শকদের মতে, নিশার মধ্যে এমন এক শক্তিশালী সত্তা রয়েছে, যা অনেক মেয়ের মধ্যেই বাস্তবে থাকা সত্ত্বেও সবসময় প্রকাশ পায় না। সেই শক্তিকেই পর্দায় সামনে এনে নিশার চরিত্রকে আরও অর্থবহ করে তোলা হয়েছে। তাই আগামী দিনে নিশাকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিকেও নজর থাকবে দর্শকদের। তাঁদের আশা, নতুন গল্পের মোড় এলেও নিশার এই সাহসী এবং প্রতিবাদী সত্তাটি যেন বজায় থাকে। কারণ এই নিশাকেই এখন অনেক দর্শক নিজেদের মতো করে দেখতে শুরু করেছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page