“কখন‌ও কাজ ভিক্ষা করিনি, প্রযোজনা সংস্থার কাছে কখনও হাত পাতিনি!”বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কিসের জোরেই মেলে সম্মান? নাকি ল*ড়াইটা আরও কঠিন, কি জানালেন অভিনেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য?

বিনোদন জগতে দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণের লড়াই থেমে থাকে না প্রবীণ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। কখনও অভিনয় দক্ষতা, কখনও অভিজ্ঞতা, আবার কখনও কাজের প্রতি নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিতে হয় তাঁদের। বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এমন বহু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের অভিনয় অনেক সময় ছবির গল্পকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। আর সেই অভিজ্ঞতা ও অভিনয় দক্ষতার জোরেই একের পর এক ছবিতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবীণ অভিনেতারা। এবার নিজের অভিনয়জীবনের সংগ্রাম, কাজ পাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মান অর্জন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য।

বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ প্রদীপ ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। নিজের অভিনয় দক্ষতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিতি তৈরি করেছেন। এবারের দুর্গাপুজোতেও একাধিক বাংলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। শুধু ছবির প্রচার বা ট্রেলারেই নয়, বড় পর্দাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দর্শকদের সামনে আসছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই প্রাপ্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর কাছে কাজ পাওয়ার বিষয়টি কেবল সুযোগের ব্যাপার নয়, বরং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করারও একটি মাধ্যম।

সাক্ষাৎকারে দুর্গাপুজোয় একাধিক ছবিতে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “কেমন লাগছে? মানে, জীবনে আমি ঠিক এটাই চেয়েছিলাম। এই সংগ্রাম, এই পথচলা, আর আমার অস্তিত্ব, সবই তো এর জন্য ছিল।” অভিনেতার কথায় স্পষ্ট, দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর একসঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজের সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের। এবারের পুজোয় উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার একটি ছবি এবং দেবের ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি কালীপুজোর সময় মুক্তি পাওয়ার কথা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘ওয়েটিং রুম’। অর্থাৎ, পুজোর শুরু থেকে উৎসবের শেষ পর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে থাকছেন তিনি। অভিনেতার কাছে এই ছবিগুলিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে বিশেষ প্রাপ্তি।

তবে প্রদীপ ভট্টাচার্যের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা এবং আত্মসম্মানের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “আমি কোনো প্রোডাকশন হাউসে ভূমিকার জন্য ভিক্ষা করতে যাইনি। আমাকে কখনো কোনো পরিচালককে বলতে হয়নি, ‘আমাকে কাজ দিন, নইলে আমি মরে যাব, আমার খাওয়ার সামর্থ্য নেই।’ কাজ এসেছে আমার অভিনয়ের ভিত্তিতে।” এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেতা। তাঁর দাবি, অভিনয়ের পাশাপাশি সততা এবং নিজের কাজের ধারা বজায় রাখার মাধ্যমেও তিনি সম্মান অর্জন করেছেন। তাঁর কথার অর্থ, কাজ পাওয়ার জন্য কারও কাছে অনুনয় করার পরিবর্তে নিজের দক্ষতা ও কাজের গুণমানের উপরেই ভরসা রেখেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা থেকেই একের পর এক ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ এসেছে বলে মনে করেন প্রবীণ এই অভিনেতা।

সব মিলিয়ে, প্রদীপ ভট্টাচার্যের এই বক্তব্য তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়। দুর্গাপুজোয় একাধিক ছবিতে উপস্থিতি নিয়ে তিনি যেমন আনন্দিত, তেমনই নিজের কাজের মাধ্যমে অর্জিত সম্মান নিয়েও গর্বিত। বাংলা ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের অবদান অনেক সময় আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং পরিশ্রম ছবির গল্পকে সমৃদ্ধ করে। প্রদীপ ভট্টাচার্যের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ শুধু একাধিক ছবিতে অভিনয় করা নয়, বরং নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page