‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে খুব বেশি সময় লাগে না। কখনও যে দু’জনকে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, পরক্ষণেই তাঁদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দূরত্ব। বন্ধুত্ব, জোট, মতের মিল সবকিছুই এখানে যেন ক্ষণস্থায়ী। বিশেষ করে রাজবীর দে, জিতু কামাল এবং নন্দিনী দত্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমীকরণ নিয়ে প্রথম থেকেই দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। একসঙ্গে সময় কাটানো থেকে শুরু করে গেম নিয়ে আলোচনা, একে অপরকে সমর্থন সব মিলিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল বেশ জমাট বন্ধুত্ব। কিন্তু এবার সেই সম্পর্কেই যেন ঢুকছে অস্বস্তির ছায়া।
জিতু ‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রবেশ করার পর থেকেই রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বারবার চর্চা হয়েছে। প্রথম দিকে দু’জনের মধ্যে মতের অমিল দেখা গেলেও পরে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। এমনকী একাধিক ঘটনায় একে অপরের পাশে দাঁড়াতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। জিতুর সঙ্গে রাজবীরের এই ঘনিষ্ঠতা থেকেই দর্শকদের একাংশ তাঁদের ‘ব্রোম্যান্স’ বলেও উল্লেখ করতে শুরু করেন। কিন্তু গেম যত এগোচ্ছে, ততই যেন সেই সম্পর্কের ভিতরে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি তনুশ্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় রাজবীরের কথাতেই ধরা পড়েছে সেই সন্দেহের ইঙ্গিত। জিতুর কিছু আচরণ এবার তাঁর কাছেও পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। এমনকী জিতু কি একটু বেশি কিছু করে ফেলছেন না, সেই প্রশ্নও উঠেছে রাজবীরের মনে। অর্থাৎ এতদিন যাঁকে নিজের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করছিলেন, তাঁর গেম নিয়েই এবার ভাবতে শুরু করেছেন রাজবীর।
এর পিছনে অবশ্য একাধিক ঘটনা রয়েছে। এর আগে লাক্সারি বাজেটের টাস্কে অতিরিক্ত ভোট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা বাড়িতে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা। প্রথমে সন্দেহের তির গিয়েছিল রাজবীরের দিকে। তিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরে দর্শকের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে অতিরিক্ত ভোট দেওয়ার ঘটনায় জিতুর ভূমিকা ছিল। সেই ঘটনায় গোটা বাড়ির লাক্সারি বাজেট বাতিল হয়ে যায়। ফলে জিতু-রাজবীরকে ঘিরে যে গেমের সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণও তৈরি হয়।
শুধু তাই নয়, এর আগে জীতু এবং রাজবীরের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধও হয়েছে। জিতু ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে ঘরে ঢোকার পর থেকেই দু’জনের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। কখনও মজা করতে গিয়ে রাজবীরের বিরক্তি, কখনও আবার গেম নিয়ে মতের অমিল সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক যে একেবারে সরল ছিল না, তা আগেই স্পষ্ট হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই দূরত্ব অনেকটাই কমে যায়। বরং জিতু, রাজবীর, নন্দিনী এবং মনামীকে নিয়ে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর ছবি দেখা যায়।
কিন্তু ‘বিগ বস’-এর ঘরে জোট যতই শক্তিশালী মনে হোক, প্রত্যেক প্রতিযোগীই শেষ পর্যন্ত নিজের খেলার কথা ভাবেন। তাই জিতুর কোনও পদক্ষেপ রাজবীরের নিজের গেমকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তার উপর নন্দিনীকে নিয়েও রাজবীরের সঙ্গে জিতুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি জীতুকে কেন্দ্র করে রাজবীর ও নন্দিনীর মধ্যেও অশান্তি হয়েছিল। যদিও পরে তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবু সেই ঘটনায় বোঝা গিয়েছিল জিতুকে ঘিরে সমীকরণ কতটা জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘নিজেকে কি ভাইফোঁটা দেন?’ নিজেকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করায় সৌরভকে কটা’ক্ষ ঋত্বিকের! হইচই টলিপাড়ায়
এখন প্রশ্ন একটাই রাজবীর কি সত্যিই জিতুর উপর থেকে বিশ্বাস হারাতে শুরু করেছেন? নাকি এটাও তাঁর গেমেরই একটা অংশ? এতদিনের ঘনিষ্ঠতা কি এবার ধীরে ধীরে দূরত্বে বদলাবে? ‘বিগ বস বাংলা’-র বাড়িতে সম্পর্কের এই নতুন মোড় আগামী দিনে আরও বড় সংঘাতের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
