জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

মন্দাক্রান্তা থেকে মায়া, নারীর আত্মঅনুসন্ধানের খোঁজে “রঞ্জন আসছে”! যুধাজিৎ সরকার, শ্রীতমা দে ও দীপক হালদারের সাহসী যাত্রা, যেখানে প্রতিবাদ কেবল একটি শব্দ নয়, তুলবে হাজার প্রশ্নও?

বাংলা সিনেমার দুনিয়ায় আসতে চলেছে এক ভিন্ন স্বাদের ছবি “রঞ্জন আসছে”, যা শুধুই বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের গভীর বাস্তবতা তুলে ধরতে চায়। পরিচালক পাবলো এই ছবিকে গড়ে তুলেছেন এক সাহসী আর্ট হাউস প্রয়াস হিসেবে, যেখানে আজকের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন লেখক জয়, যিনি নিজের সেরা সৃষ্টি লিখতে গিয়ে বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা ভেঙে ফেলেন। এই ছবির সূচনাতেই দর্শক বুঝতে পারেন এটি সাধারণ গল্প নয়, বরং এক আত্মঅনুসন্ধানের যাত্রা।

জয়ের স্ত্রী মন্দাক্রান্তাকে তিনি কল্পনায় ‘রেবতী’ হিসেবে গড়ে তোলেন, যিনি শান্ত স্বভাবের, ধার্মিক এবং চুপচাপ জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। কিন্তু বাস্তবের মন্দাক্রান্তা সেই ছাঁচে আটকে থাকতে চান না। তার ভেতরে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আরেকটি সত্তা ‘মায়া’, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে এবং প্রতিবাদ করতে শেখায়। এই দ্বৈত সত্তার সংঘাত ছবির মূল আকর্ষণ, যেখানে এক নারীর ভিতরের লড়াই দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। এই অংশটি ছবিকে একটি মানসিক ও আবেগঘন স্তরে পৌঁছে দেয়।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আসে নিশীথ চরিত্রটি, যার উপস্থিতি গল্পে নতুন মোড় নিয়ে আসে। তার হাত ধরেই জন্ম নেয় ‘রঞ্জন’, যে শুধুমাত্র একটি চরিত্র নয়, বরং প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং জাগরণের প্রতীক। পরিচালক জানান, ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই ছবির কাজ দীর্ঘ সময় ধরে এগিয়ে ২০২৫ সালের শেষে পূর্ণতা পায়। বোলপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্পূর্ণ শুটিং হওয়ায় ছবিতে এক আলাদা বাস্তবতা ও নান্দনিকতা যুক্ত হয়েছে, যা দর্শকদের আরও গভীরে টেনে নিয়ে যাবে।

অভিনেতাদের কথায় এই ছবির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুধাজিৎ সরকারের মতে, এই ছবি সেই সব সত্য তুলে ধরে যা মানুষ বলতে ভয় পায়। শ্রীতমা দে মনে করেন এটি আমাদের সমাজ ও রাজনীতির এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। দীপক হালদার বলেন, যখন মানুষ প্রশ্ন করতে পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন এই সিনেমা সাহস জোগাবে। সত্যকাম আনন্দ এই প্রজেক্টকে নিজের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন, আর মৌয়ের ভাষায় “রঞ্জন শুধু একটি চরিত্র নয়, এটি একটি অনুভূতি, একটি বিপ্লবের প্রতীক”।

প্রথমে দেশ বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবির প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে, তারপর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে “রঞ্জন আসছে”। এই সিনেমা শুধুমাত্র একটি গল্প বলবে না, বরং মানুষের আত্মসম্মান, আত্মচেতনা এবং অধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসবে। বর্তমান সময়ে যেখানে নীরবতা অনেক সময় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে এই ছবি একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে আসতে চায়। “রঞ্জন আসছে” তাই শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি এক সামাজিক দলিল, যা দর্শকদের ভাবতে এবং প্রশ্ন করতে বাধ্য করবে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page