বাংলার বর্তমান সামাজিক ও নাগরিক পরিবেশ নিয়ে ফের স্পষ্ট মত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী Rupa Ganguly। একটি নতুন বাংলা ছবির সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তিনি শুধু রাজনীতি নয়, সাধারণ মানুষের নাগরিক দায়িত্ব নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন। তাঁর মতে, কোনও সমস্যার জন্য শুধুমাত্র সরকার বা একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং প্রতিটি মানুষের নিজের আচরণ এবং অভ্যাসও রাজ্যের পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি বাংলার নোংরা পরিবেশের প্রসঙ্গ তুলে সাধারণ মানুষকেও আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার মানুষের আজকের এই নোংরা পরিস্থিতির জন্য তো তারাই দায়ী, সব দোষ তৃণমূলকে দিলেই হবে?” তাঁর বক্তব্য, কোনও শহর বা রাজ্যকে পরিষ্কার রাখা শুধু প্রশাসনের একার কাজ নয়। সাধারণ মানুষ যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে শুধু সরকারের সমালোচনা করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগেও একই ধরনের কথা বলেছিলেন। তখন অনেকেই তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু এখনও তিনি একই অবস্থানেই অনড় বলে জানান।
এরপর নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “আগেও আমি বলেছি তখন তৃণমূলে ঢুকবে বলতো। আজকেও বলছি কি নিজের রাজ্য নিজেকেও দায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।” তিনি মনে করেন, রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার রাখা শুধু পুরসভার কর্মীদের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজের ব্যবহার এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হওয়া। তাহলেই শহর ও রাজ্যের সামগ্রিক পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে বলে তাঁর মত।
কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রসঙ্গ টেনেও আবেগঘন মন্তব্য করেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সে যতই কর্পোরেশনের লোক থাকুক না কেন, তারাও তো মানুষ! তাদেরও তো কষ্ট করেই পরিষ্কার করতে হয়, কেন ইচ্ছা করে তাদের কষ্ট আরও বাড়ানো?” তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের শ্রমকে সম্মান জানানো প্রত্যেকের কর্তব্য। তাই অযথা রাস্তায় ময়লা ফেলে তাঁদের কাজ আরও কঠিন করে তোলা উচিত নয়। নাগরিকদের এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার আহ্বানও জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ আবারও জলসার পর্দায় জুটিতে ফিরছেন সোনামণি- প্রতীক? ফিরছে ‘মোহর’ নস্টালজিয়া? টলিপাড়ার অন্দরের খবর কি?
সবশেষে তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আরও একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তাঁর কথায়, “কিছু একটা খেলাম, এখানে ওখানে প্যাকেট ফেলে দিলাম, এটা কেন হবে?” এই অভ্যাস বদলানোই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ থাকলেও মূল বার্তা ছিল নাগরিক সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের উপর। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ ভিন্ন মতও প্রকাশ করছেন। তবে নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে তাঁর এই বার্তা যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
