বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিন কাজ করা শিল্পীদের মধ্যে পরিচালক সঞ্জয় গুহর নামও পরিচিত। সম্প্রতি এক প্রবীণ অভিনেতা পরিচালকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন একটি অভিযোগ করেছেন, যা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক নামী অভিনেত্রী তাঁর পরিচালনায় একসময় একাধিক কাজ করেছেন। অর্থাৎ সেই পরিচালকের ছবিতে অভিনেত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। অথচ সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গিয়েছে বলেই দাবি পরিচালকের। বর্তমানে সেই অভিনেত্রী নিজেও যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বলেও তাঁর বর্ণনা থেকে জানা যাচ্ছে। ফলে তাঁর এমন আচরণের অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
সঞ্জয় গুহর দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর একসময় যথেষ্ট কাজের সম্পর্ক ছিল। শুধু অভিনয় নয়, তাঁর পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়েও এই পরিচালকের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা ছিল বলে অভিযোগকারীর বক্তব্য। অভিনেত্রীর নিজের স্বামীও পরিচালক এবং বর্তমানে তিনি একটি গেম শো সঞ্চালনা করেন। পাশাপাশি অভিনয় শেখানোর জন্য তাঁর একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠান তৈরি বা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সঞ্জয় গুহর কাছ থেকে তিনি একসময় পরামর্শ ও উৎসাহ পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে এতদিনের পরিচয় এবং পেশাগত সম্পর্কের পরেও যদি কোনও অভিনেত্রী একজন পরিচিত পরিচালককে চিনতে অস্বীকার করেন, তাহলে সেই ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন তিনি।
ঘটনার প্রসঙ্গে সঞ্জয় গুহ জানান, সম্প্রতি এক প্রবীণ অভিনেতা তাঁর কাছে ওই অভিনেত্রী সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। সেই সময় নাকি অভিনেত্রী তাঁকে চিনতে অস্বীকার করেন। অর্থাৎ যে পরিচালকের সঙ্গে অতীতে একাধিকবার কাজ করেছেন, তাঁর সম্পর্কেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় গুহ অবশ্য সরাসরি কারও নাম নেননি। বরং তিনি স্পষ্ট করেছেন, ঘটনাটি তিনি নিজের চোখে দেখেননি এবং নিজের কানেও শোনেননি। তাই শুধুমাত্র শোনা কথার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে এই সতর্কতাও স্পষ্ট যে, তিনি অভিযোগটি নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন না।
তবে একইসঙ্গে সঞ্জয় গুহ জানিয়েছেন, যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেটি তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পুরনো সম্পর্ক এবং বর্তমান সময়ের আচরণের পার্থক্য নিয়েও আক্ষেপের সুর রয়েছে। একজন পরিচালক এবং অভিনেত্রীর মধ্যে বহু বছরের পেশাগত সম্পর্ক থাকার পর সেই পরিচয় অস্বীকার করার ঘটনা সত্যি হলে তা যে সহজভাবে নেওয়া সম্ভব নয়, সেই কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। তবে বিষয়টি যেহেতু তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নয়, তাই তিনি বারবার সতর্ক থেকেছেন। তাঁর আশা, যে ঘটনাটি তাঁর কানে এসেছে, সেটি যেন সত্যি না হয়। কারণ সত্যিই যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে চূড়ান্ত অপমানের।
যদিও সঞ্জয় গুহ কোথাও সরাসরি অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর দেওয়া পরিচয় এবং বর্ণনার সঙ্গে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর তথ্য মিলে যাচ্ছে। তাঁর স্বামী পরিচালক, বর্তমানে গেম শো সঞ্চালনা এবং অভিনয় শেখানোর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকা, পাশাপাশি সঞ্জয় গুহর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ নেওয়ার প্রসঙ্গ মিলিয়ে অভিযোগের তীর সুদীপ্তার দিকেই যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সঞ্জয় গুহ নিজে তাঁর নাম না নেওয়ায় এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষভাবে দেখেননি বলে জানানোয়, এই অভিযোগকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন এই বিষয়ে অভিনেত্রীর কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার।
