বাঙালির মননে তিনি আজও প্রাণের ঠাকুর! তাঁর জন্মদিন কোন উৎসবের থেকে কম নয়! বৈশাখ মাসের এই বিশেষ দিনে প্রখ্যাত শিল্পী জয়তী চক্রবর্তী বললেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত কেবল গান নয়, এটি জীবনকে বোঝার একটি শিক্ষা। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথের গানে প্রেম, বিরহ, নিবেদন এবং জীবনের নানা মুহূর্তের অনুভূতি মিশে আছে, যা গায়কীর মাধ্যমে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। জয়তী নিজে আধুনিক ধারার গান থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত পর্যন্ত অনায়াসে যাতায়াত করেন। ২৫ বৈশাখে তিনি রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত আজকের প্রজন্মও তাদের মতো করে বুঝতে পারে এবং এটি তাদের জীবনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে।
জয়তী জানান, রবীন্দ্রসঙ্গীতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এক গানেই বিভিন্ন ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আজকের প্রজন্মও গানকে তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝে। তারা গানকে নিজেদের মতো করে অনুভব করতে পারে।” জয়তী মনে করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান পৌঁছানোর জন্য ব্যাখ্যা এবং উপস্থাপনা নতুনভাবে করা প্রয়োজন। গানগুলো কেবল শোনানো নয়, বরং তাদের অন্তরে পৌঁছাতে হবে।
শিল্পী আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি হলেও জীবনের গভীর বোধ কম। সক্রিয় জীবনধারা, দ্রুতগতি এবং উত্তেজনা তাদের মধ্যে শান্তির অনুভূতি কমিয়ে দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গান মূলত ভেতর থেকে শান্তি দেয়। তাই নতুন প্রজন্মকে শান্তির অনুভূতি দিতে হলে প্রথমে গানটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জয়তী মনে করেন, শব্দের বিন্যাস এবং সাউন্ডের ধরন পরিবর্তনের মাধ্যমে গানটি আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
জয়তী চক্রবর্তী বলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করানোর চ্যালেঞ্জ মূলত উপস্থাপনায়। গানটি যথাযথ মর্যাদা দিয়ে, শ্রদ্ধার সঙ্গে পরিবেশন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গানটির অনুভূতি ও মান ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, সঠিকভাবে গান পরিবেশন করলে নতুন প্রজন্মও রবীন্দ্রনাথের ভাব ও বোধ উপলব্ধি করতে পারবে।
শেষে জয়তী বলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে নিয়ে আসা মানে শুধু গান শেখানো নয়, এটি একটি জীবন দর্শন শেখানোর পথ। গানটি যদি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়, তবে তরুণরা তার সৌন্দর্য ও গভীরতা অনুভব করতে সক্ষম হবে। তিনি আশা করেন, নতুন প্রজন্ম রবীন্দ্রনাথের গানকে নিজের মতো করে বোঝার মাধ্যমে জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং শান্তি খুঁজে পাবে।
