অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু সম্প্রতি এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সমস্ত সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নামের বানান ভুলভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, একই সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁর বাবাও। এই ভুল সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে সৌমিতৃষা ও তাঁর পরিবারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অভিনেত্রীর কাছে যেমন বিস্ময়ের, তেমনই মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যে এমন ভুল কতটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে উঠে আসছে।
শুনানির তারিখ ২০ জানুয়ারি, অথচ মাত্র চার দিন আগে এই নোটিস পেয়েছেন সৌমিতৃষা। তাঁর আগে থেকেই একাধিক জরুরি কাজ নির্ধারিত ছিল, যা বাতিল করে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। এতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, এত অল্প সময়ের নোটিসে প্রস্তুতি নেওয়া বা সময় সামলানো সহজ নয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করছেন, কেন অনেক প্রবীণ নাগরিক এই ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিষয়টি তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, সামাজিক ভাবনারও জায়গা তৈরি করেছে।
কবি জয় গোস্বামী, দেবসহ একাধিক খ্যাতনামী ব্যক্তিও ইতিমধ্যেই এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিয়েছেন। সে প্রসঙ্গ উঠতেই সৌমিতৃষার সোজাসাপ্টা মন্তব্য, দেবদাকেও যেখানে ডাকা হয়েছে, সেখানে তিনি নিজে কে। তাঁর এই বক্তব্যে যেমন বিনয় প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ব্যাপ্তি নিয়েও ইঙ্গিত মিলেছে। পরিচিত মুখ হোক বা সাধারণ মানুষ, সবাইকেই একই নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি এবং সময় নির্ধারণ কতটা বাস্তবসম্মত এবং নাগরিকদের পক্ষে সহায়ক।
নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তিনি অস্বীকার করেন না। তাঁর বক্তব্য, প্রক্রিয়ায় আপত্তি নেই, আপত্তি রয়েছে সময় নির্বাচন নিয়ে। ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে এই কাজ শুরু হওয়ায় অযথা চাপ এবং বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। যদি সারা বছর ধরে ধাপে ধাপে এই কাজ চলত, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমত। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় অনেকেই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলেও মনে করেন অভিনেত্রী। এতে প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থাও কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ঈশান মজুমদারের হাত ধরে বাংলা ও কান্নাডে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যাকশন মিউজিক ভিডিও ‘একবার এসো’! নিজের কণ্ঠ ও অভিনয়ের ভাষায় গল্প বললেন তিনি, মিলবে পুরো বড়পর্দার মতো অভিজ্ঞতা!
বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক এবং অসুস্থ মানুষের পক্ষে এই দৌড়ঝাঁপ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সৌমিতৃষার প্রস্তাব, বাড়ি বাড়ি গিয়ে যদি বিএলওরা তথ্য সংগ্রহ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বস্তি পেতে পারেন। এতে ভিড়, দুশ্চিন্তা এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক কমবে। শেষ পর্যন্ত তাঁর আশা, এই প্রক্রিয়া আরও মানবিক ও নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠুক, যাতে কেউ অযথা হয়রানির শিকার না হন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও মজবুত হয়।
