পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুর চার দিন পর প্রথমবার বিস্তারিতভাবে মুখ খুললেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাকে দায়ী করবে বলে অনীক এই পদক্ষেপ করেনি। এটাই সত্যি।” গত বুধবার দুপুরে সন্ধির বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয় পরিচালকের। তারপর থেকেই সমাজমাধ্যমে নানা জল্পনা, অভিযোগ এবং আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটির জন্য সন্ধিকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। তবে সেই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
ঘটনার পর একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, অনীক নাকি প্রথমে সন্ধির ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েছিলেন। সাড়া না পেয়ে তিনি ছাদে উঠে যান এবং পরে সেখান থেকে ঝাঁপ দেন। কিন্তু তদন্তকারী আধিকারিক দেবাশিস দত্ত এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। অনীকবাবু কোথাও যাননি। তিনি সোজা ছাদে উঠে যান।” একই তথ্য সামনে এনে সন্ধিও জানান, “অনেক মাস হয়ে গিয়েছে, আমাদের মধ্যে কথা নেই। যোগাযোগ তো দূরের কথা। শেষ যে দিন এসেছিল, সে দিন বেশ কিছু সময় কাটিয়ে গিয়েছিল। আমার কাছে বসে কেক, চা খেল। নানা কথা বলল। তার পর চলে গেল।” তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁদের মধ্যে বহুদিন ধরেই কোনও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল না।
সন্ধি জানান, তাঁদের মেয়ে ঐশীর প্রয়োজনেই কেবল সীমিত যোগাযোগ বজায় ছিল। এর বাইরে তিনি আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চাননি। যদিও শেষের দিকে অনীক তাঁর কাছে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে সন্ধি বলেন, “আমাদের ‘কমন বন্ধু’দের কাছে অনীক অনেক বার আমার কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমি ফিরব না বলেই ওর হাত ছেড়েছি!” বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি এও বলেন, “আমাদের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে একটি কথাও বলব না। এমনকি, কেন আমার বাড়ির ছাদ থেকে এ রকম ভয়ঙ্কর মৃত্যু বেছে নিল অনীক, সেটাও সম্ভবত আঁচ করতে পারছি। এ ব্যাপারেও কিছু বলব না। তবে অনীক আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে বলে, এ রকম কিছু করেনি। এটাই সত্যি।”
পরিচালকের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সন্ধি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যার চিকিৎসা চলছিল অনীকের। তিনি বলেন, “গত সাড়ে তিন বছর ধরে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা চলছিল ওর। নিয়মিত ওষুধ খেত। গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিল। এই পরিস্থিতি যাঁদের, তাঁদের যখন মনখারাপ বেড়ে যায়, তখন নিজেদের সামলাতে পারেন না। কী করতে চলেছেন, সেটাও ঠিক মতো গুছিয়ে ভাবতে পারেন না।” অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে অনীকের ঘনিষ্ঠ পরিচিত পর্ণালি ধর চৌধুরীকেও ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সেই বিতর্কে জড়াতে চাননি সন্ধি।

পর্ণালি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সন্ধির জবাব ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, “পর্ণালি সম্পর্কে কিছুই জানি না। জানার আগ্রহও নেই। আমার বন্ধুরা ওদের ছবি দেখিয়েছে। এই পর্যন্তই।” এরপরই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “কেন আগ্রহ দেখাব? আমরা তো পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন। তার পরে ও কী করছে, সেই বিষয়ে কেন খবর রাখব?” বর্তমানে নিজের চারপাশে একপ্রকার সুরক্ষার গণ্ডি তৈরি করে রেখেছেন তিনি। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে ফিরে আসা মেয়ে ঐশীকেও নিয়ে চলছে কঠিন সময়। তবে মেয়েকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সন্ধি বলেন, “ঐশী পূর্ণবয়স্ক। ওকে সামলাতে হয় না। ও-ই বরং আমাকে সামলে দিচ্ছে।” এই কঠিন পরিস্থিতিতে মেয়ের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে জানিয়েছেন তিনি।
