মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ কি কোনও দিন ভোলা যায়? দামি রেস্তরাঁর খাবার কিংবা নামী শেফের রান্নাও অনেক সময় হার মানে বাড়ির সাধারণ ডাল-ভাতের কাছে। কারণ, সেই খাবারের সঙ্গে মিশে থাকে ছোটবেলার স্মৃতি, মায়ের ভালোবাসা আর যত্ন। সম্প্রতি রান্নার আসরে মায়ের হাতের রান্না নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনই নানা স্মৃতিতে ফিরে গেলেন টলিপাড়ার পরিচিত মুখেরা। গায়িকা ইমন চক্রবর্তী থেকে অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা, সকলের কথাতেই উঠে এল বাড়ির খাবারের প্রতি টান। তবে অন্বেষার একটি উপলব্ধি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মায়ের রান্নায় নুন কম হওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজে রান্না করতে গিয়ে বুঝলেন, মায়ের পরিশ্রমটা কতটা কঠিন!
সোনি আটের নতুন নন-ফিকশন শো ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-তে রান্নার পাশাপাশি তারকাদের ব্যক্তিগত স্মৃতিও উঠে আসছে। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ইমন চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ, রূপাঞ্জনা মিত্র, অন্বেষা হাজরা, সৌরভ দাস, দর্শনা বণিক-সহ আরও অনেকে। রান্নার ফাঁকে মায়ের হাতের কোন পদ সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, সেই গল্পই ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। অন্বেষা জানিয়েছেন, তাঁর মা ও বাবা দু’জনেই খুব ভালো রান্না করেন। তবে বাড়িতে নিয়মিত রান্নার দায়িত্ব মূলত তাঁর মায়েরই। সম্প্রতি মায়ের হাতের আলুভাজায় নুন কম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু রান্না করতে গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতেই কোমরের ব্যথা অনুভব করেন। তখনই উপলব্ধি হয়, রান্না করাটা কতটা পরিশ্রমের কাজ। তাই তাঁর কথায়, ‘নুন নেই তো কী হয়েছে, সেটাই খেতে হবে।’
অন্যদিকে, মায়ের হাতের রান্নার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গায়িকা ইমন চক্রবর্তীও। প্রয়াত মায়ের স্মৃতি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ইমন জানান, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে মা তাঁকে ডালসেদ্ধ, আলুসেদ্ধ ও ডিমসেদ্ধ দিয়ে ভাত মেখে খাইয়ে দিতেন। সঙ্গে থাকত একটু ঘি আর কাঁচালঙ্কা। খুব সাধারণ এই খাবারই ছিল তাঁর ছোটবেলার প্রিয় স্বাদ। আজও সেই খাবার এবং মায়ের হাতে খাওয়ানোর মুহূর্ত ভীষণভাবে মিস করেন গায়িকা। ইমনের কথায়, ‘ডাল সেদ্ধ, আলু সেদ্ধ, ডিম সেদ্ধ দিয়ে ভাত মেখে, সঙ্গে ঘি আর লঙ্কা। স্কুল থেকে আমি যখন আসতাম আমাকে খাইয়ে দিত।’ মায়ের হাতের খাবার যে শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, বরং ভালোবাসা ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, ইমনের কথাতেই তা স্পষ্ট।
মায়ের রান্নার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন কাঞ্চন মল্লিকও। তাঁর কথায়, বয়স যতই হোক না কেন, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আলাদা। বাড়িতে উপকরণ কম থাকলেও তাঁর মা নানা পদ তৈরি করতে পারতেন। পুকুরপাড় থেকে কচুগাছ তুলে এনেও যে পাঁচ রকমের রান্না করা যায়, তা মায়ের কাছ থেকেই শিখেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র এই পর্বে রান্নার সঙ্গে উঠে এসেছে পরিবার, শৈশব এবং মায়ের প্রতি ভালোবাসার নানা গল্প। অনুষ্ঠানটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনই রান্না করতে গিয়ে তারকাদের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত স্মৃতিও হয়ে উঠছে আলোচনার বিষয়।
