বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে নির্মাতারা ক্রমশ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। নয়া ছবি তৈরি করলেও নিয়মের জটিলতা অনেক সময় তাদের স্বাধীনতা সীমিত করে। পরিচালকরা অভিযোগ করছেন, চলচ্চিত্র বানানোর পাশাপাশি প্রচার ও পরিবেশনার ক্ষেত্রে যে বাধা, তা তাদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে সব পরিস্থিতিতেই নতুন পথ খুঁজে বের করছেন কেউ কেউ। সাম্প্রতিক সময়ে এই চেনা ধারার বাইরে পা বাড়িয়েছেন পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য।
প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য তাঁর ‘নধরের ভেলা’ ছবিটি বাংলা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিয়েছেন নিজ হাতে। স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত, স্থানীয় কলাকুশলীদের সঙ্গে বসে টিকিট বিক্রি করেছেন তিনি। নিজের ছবির বিতরণের দায়িত্ব নেয়ার এই ধারা দর্শকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। প্রচারমাধ্যমের প্রচেষ্টা ছাড়াই ছবিটি দর্শককে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। দর্শকরা হালকা ভাবেই ছবিতে আসন পূর্ণ করেছেন, যা প্রমাণ করে, স্বতন্ত্র প্রচারের মাধ্যমেও ছবি সফল হতে পারে।
তেমনই অন্য উদাহরণ রঞ্জন ঘোষ পরিচালিত এবং অপর্ণা সেন নিবেদিত ‘অদম্য’ ছবিটি। ছবিটি চেনা ধারার বাইরে পা রাখার পর দর্শক ও সমালোচকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ছবির প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে দর্শকের সঙ্গে বসে তা দেখেছেন অপর্ণা সেন। তিনি বলেন, “চিত্রকল্প যতটা সত্যি, ততটা দেখানো হয়েছে। অতিরিক্ত সুন্দর করার চেষ্টা করা হয়নি, তবুও নান্দনিক দিক থেকে ছবিটি শক্তিশালী। এটি দর্শককে টানে।”
টলিউডে বর্তমানে ছবির পরিবেশনা নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও নতুনত্বের চেষ্টা চালাচ্ছেন পরিচালকরা। অপর্ণা সেন জানিয়েছেন, ‘নধরের ভেলা’ দেখেননি, তবে তার প্রচারের ধারা সত্যিই অনন্য। গেরিলা স্টাইলের প্রচার দর্শকের কাছে তীব্র প্রভাব ফেলে। তিনি আরও বলেছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ফলে সমস্যা বাড়ছে এবং এটি বিনিয়োগকারীদেরকে পিছিয়ে দিচ্ছে। মুম্বই থেকে যারা কাজ করেন, তারাও একই অভিজ্ঞতা ভাগ করছেন।
আরও পড়ুনঃ “তুমি গ্যাস সিলিন্ডারের থেকেও বেশি দামি” মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায়, দেশে চরম গ্যাস সংকট! এর মাঝেও অভিনেত্রী কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই মানুষটি! তিনি কে জানেন?
অতএব, চেনা ছক ভেঙে নতুন গল্প ও নতুন পথ অনুসরণের ধারার ওপরই এখন বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে মনে করছেন স্বাধীন পরিচালকরা। অপর্ণা সেনও মনে করছেন, পরিচালকরা নিজের মতো করে নতুন পথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে শিল্পকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন। তবে এই নতুন ধারা কতটা টেকসই হবে, তা সময়ই বলবে। দর্শকরা ইতিমধ্যেই স্বতন্ত্র প্রচারের ছবিকে সাপোর্ট করছেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
