অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও পড়াশোনাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া আজকাল খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু অভিনেত্রী ‘দিতিপ্রিয়া রায়’ (Ditipriya Roy) সেই দিক থেকে আলাদা। কাজের চাপ, শুটিং, প্রচার, সবকিছুর পাশাপাশি তিনি চুপচাপ নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে গিয়েছেন। সম্প্রতি সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেল, শাড়িতে সজ্জিত দিতিপ্রিয়ার গলায় উত্তরীয় এবং কলেজের পরিচয়পত্র।
হাতে ধরা মাস্টার্সের সনদ, মুখে পরিশ্রমের স্বস্তি মেশানো হাসি। এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। অল্প বয়স থেকেই ক্যামেরার সামনে বড় হওয়া দিতিপ্রিয়া অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। বোর্ডের পরীক্ষা থেকে স্নাতক এবং তারপর স্নাতকোত্তর, প্রতিটি ধাপেই তিনি মনোযোগী ছিলেন। অভিনয়ের কারণে শিক্ষাজীবনে কখনও যেন ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে বরাবরই সচেতন ছিলেন তিনি। এমনকি মাঝরাতে জেগে থাকা, একের পর এক খসড়া তৈরি করা আর শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা।
ডিসার্টেশন জমা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রমের অংশ। মঞ্চে উঠে শিক্ষকদের হাত থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার একটি ভিডিওও তিনি ভাগ করেছেন। সেখানে সহপাঠীদের উপস্থিতিতে ধরা পড়েছে এক অন্যরকম দিতিপ্রিয়া। তিনি যেন অভিনেত্রী নয়, একজন সাধারণ ছাত্রী। সনদে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার উল্লেখও নজর কেড়েছে অনেকের। তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে ছিল অর্জনের স্বীকৃতি আর দিনের বিশেষত্বের কথা।
বড় কোনও ঘোষণা নয়, বরং নিজের পরিশ্রমের মুহূর্তটুকু সহজভাবে ভাগ করে নেওয়ার আনন্দই যেন বেশি করে ফুটে উঠেছে। অবশ্য তাঁর কেরিয়ারের পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। গত বছর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’এ অভিনয় করাকালীন সহ-অভিনেতার সঙ্গে মতবিরোধ নিয়ে চর্চায় উঠে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও পরে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে নিজের কাজ শুরু করেন। এখন সেই অধ্যায় অতীত।
আরও পড়ুনঃ “সবার সামনে শরীর মাপা হত চোখে, যাতে স্ত’নের নির্দিষ্ট অংশ ফুটে ওঠে, পরিচালক বলতেন…” দক্ষিণী ছবির সেটে শরীরকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি! অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন তাপসী পান্নু!
সিরিজ, সিনেমা, টেলিভিশন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। এমনকি গল্প মীরের ঠেকের একটি অডিয়ো স্টোরিতেও শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পর্বের স্মৃতিও ভাগ করেছিলেন দিতিপ্রিয়া। সাদা টি-শার্ট ও ডেনিমে ক্যাম্পাসের সাধারণ এক ছাত্রী হিসেবে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। হাতে ছিল ডিসার্টেশনের কাগজ, পাশে বন্ধুদের হাসিমুখ। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর অবশেষে জমা দিয়েছেন তাঁর গবেষণাপত্র। সেই যাত্রার পরিণতিই যেন আজকের এই সনদ।
