জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘এরকম হামেশাই শোনা যায়…১০০ শতাংশ ধ্রুবসত্য!’ টলিউডে শৃঙ্খলার অভাব! শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের কথায় সমর্থন জানিয়ে, নবাগতদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের!

টলিউড থেকে বলিউড এবং দক্ষিণী সিনেমাতেও নিজের খ্যাতি তৈরি করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। অমিতাভ বচ্চন থেকে মাধুরী দীক্ষিতের মতো কিংবদন্তি তারকার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাশ্বত জানিয়েছিলেন, মাধুরী দীক্ষিতের মতো বড় মাপের শিল্পীও প্রয়োজন ছাড়া মেকআপ ভ্যানে যান না। অন্যদিকে টলিপাড়ার কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সেটে আনার জন্য অনেক সময় চারজনের সাহায্য লাগে। শাশ্বতের এই মন্তব্যের সাপেক্ষে এবার সমর্থন জানালেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়।

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্টে দেখা গেছে, তিনি বর্তমান প্রজন্মের কিছু শিল্পীর আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “১০০% সত্য। অনেক সময় ভ্যান থেকে নামার আগে দেখা হয়, কে আগে পৌঁছেছে, তারপর যাওয়া যায়। কেউ আগে ডেকেছে, সেটে যাই না—এ ধরনের কথাই প্রায়শই শোনা যায়।” তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন, এখনকার কিছু অভিনেতা বুঝতে পারছেন না যে সময়মতো উপস্থিত হওয়াও পেশার একটি দায়িত্ব। ভাস্বরের মতে, অনেকেরই পারিশ্রমিক পাওয়া সত্ত্বেও শৃঙ্খলার প্রতি মনোযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, অনেকবার এমন হয়েছে যে তিনি সেটে পৌঁছেছেন, কিন্তু অন্য কেউ আসেননি। এর ফলে প্রডিউসারের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, অথচ তা মাথায় আসে না। ভাস্বর মনে করান যে, সিনেমার কাজ তখনও সম্ভব হতো না যদি সবাই নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করত। তিনি জানালেন, এই অসংগতি চলচ্চিত্র প্রজন্মের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রডিউসার এবং সহকর্মীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ভাস্বর উদাহরণ হিসেবে বলেছেন, দীপঙ্কর দে, সুপ্রিয় দত্ত এবং কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ শিল্পীরা এখনও সময়মতো পৌঁছে শটের জন্য প্রস্তুত থাকেন। তারা কল-টাইমের আগে উপস্থিত থাকেন এবং একবার ডাকলেই কাজ শুরু করতে প্রস্তুত থাকেন। এই পেশাদারিত্ব নবাগতদের কাছে শিক্ষণীয়। ভাস্বর প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান প্রজন্ম কি এই ধরনের শৃঙ্খলাবোধ শিখছে কিনা।

শাশ্বত ও ভাস্বরের মন্তব্যের পর থেকে টলিপাড়ার স্টুডিওয় চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতে শিল্পীদের পেশাদারিত্ব ও সময়ানুবর্তিতার দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারে। যদিও এখনই কোনো সরাসরি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না, তবু এই মন্তব্য নতুন প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। টলিউডের পরিবেশে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা নিয়ে এই আলোচনা আগামিদিনে আরও গরম হতে পারে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page