“টক্সি*ক বললেও কম, এটাই একটা ছেলে করলে জেলে থাকত!” হীনমন্যতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই অনুভূতির প্রকাশ এমন হবে? নন্দিনীর আচরণ নিয়ে টলিউডের পরিচিত মুখেদের ক্ষোভ! রাজবীরকে মা’রধর ও সৃজলার প্রতি ব্যবহারে কী বললেন প্রেরণা-বিভান?

বিগ বস বাংলার ঘরে প্রতিদিনই বদলাচ্ছে খেলার সমীকরণ। কখনও প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া, কখনও প্রেম, আবার কখনও একে অপরের প্রতি আচরণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নন্দিনী দত্তের আচরণ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দর্শকমহল। বিশেষ করে রাজবীর দে-র সঙ্গে তাঁর শারীরিক আচরণ এবং সৃজলা পালের প্রতি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। রাজবীরের গায়ে হাত তোলা থেকে শুরু করে সৃজলাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য, সব মিলিয়ে নন্দিনীর উপর ক্ষোভ বাড়ছে দর্শকদের একাংশের। এবার শুধু সাধারণ দর্শক নন, নন্দিনীর আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন টলিউডের পরিচিত মুখেরাও। জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রেরণা দাস এবং অভিনেতা বিভান ঘোষ সমাজমাধ্যমে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য ঘিরেও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়।

জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার প্রেরণা দাস বিগ বসের ঘরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, রিয়্যালিটি শোয়ের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে কেন যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না? এমন আচরণকে কীভাবে সমতার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। প্রেরণার মতে, একই ঘটনা যদি কোনও পুরুষ প্রতিযোগী কোনও মহিলা প্রতিযোগীর সঙ্গে ঘটাতেন, তা হলে এতক্ষণে তাঁকে জেলে থাকতে হত। অর্থাৎ, একজন মহিলা প্রতিযোগী বলে তাঁর আচরণকে হালকাভাবে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছেন তিনি। নন্দিনীর আচরণকে ‘টক্সিক’ বলেও উল্লেখ করেছেন প্রেরণা। তাঁর কথায়, মানুষের মধ্যে হীনমন্যতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই অনুভূতির প্রকাশ কখনও এমন হওয়া উচিত নয়। বিগ বসের মতো জনপ্রিয় একটি মঞ্চে এই ধরনের আচরণ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলেই তাঁর বক্তব্য।

অন্যদিকে, অভিনেতা বিভান ঘোষও বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক পর্ব দেখে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন। নন্দিনীর আচরণ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, একজন মানুষ কতটা টক্সিক আচরণ করতে পারেন, তা দেখে তিনি অবাক। শুধু রাজবীরের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার নয়, সামগ্রিক আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। পাশাপাশি আর্থিক অবস্থার সঙ্গে একজন মানুষের পারিবারিক মূল্যবোধ বা পরিচয়কে এক করে দেখার বিরুদ্ধেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিভানের বক্তব্য, কারও আর্থিক অবস্থা ভালো হলেই তাঁকে ভালো পরিবারের মানুষ বলা যায় না। অর্থাৎ, অর্থসম্পত্তি দিয়ে কোনও মানুষের ব্যবহার কিংবা পারিবারিক শিক্ষা বিচার করা সম্ভব নয় বলেই তাঁর মত। যদিও তাঁর এই মন্তব্যে সরাসরি নন্দিনীর নাম উল্লেখ না থাকলেও, বিগ বসের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আসলে রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্কের সমীকরণ শুরু থেকেই বিগ বসের ঘরে অন্যতম চর্চার বিষয়। কখনও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা, কখনও মনোমালিন্য, আবার কখনও একে অপরের প্রতি অভিমান, সবকিছুই নজর কেড়েছে দর্শকদের। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্বে রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর শারীরিক আচরণ পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে সৃজলার প্রতি তাঁর ব্যবহার নিয়েও দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও তার কারণে অন্য প্রতিযোগীর সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রেরণা ও বিভানের মতো পরিচিত মুখেরা প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। সমাজমাধ্যমেও নন্দিনীর আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে নারী-পুরুষের সমতা, শারীরিক আক্রমণ এবং প্রতিযোগীদের পারস্পরিক সম্মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

তবে এই বিতর্কের মধ্যেও বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর পরবর্তী আচরণ কী হয়, সেটাই এখন দেখার। প্রেরণা দাস ও বিভান ঘোষের মন্তব্যের পর নন্দিনী কোনও প্রতিক্রিয়া জানান কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। পাশাপাশি রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সৃজলাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অশান্তি কি আগামী পর্বগুলিতেও বজায় থাকবে, নাকি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে? একদিকে ঘরের ভিতরে প্রতিযোগীদের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্ব, অন্যদিকে বাইরে থেকে পরিচিত মুখেদের সমালোচনা, সব মিলিয়ে নন্দিনীকে ঘিরে বিতর্ক এখন বিগ বস বাংলার অন্যতম আলোচিত বিষয়। আগামী পর্বে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, আপাতত সেদিকেই নজর দর্শকদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page