‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরে ফের রাজবীরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। গতকালের পর্বে দেখা যায়, রাজবীরের জন্য রাখা সিদ্ধ ডিমের জায়গায় কাঁচা ডিম রাখা হয়েছে। ফলে রাজবীর যখন সেই ডিম খেতে গিয়ে ভাঙতে যান, তখন তাঁর হাত এবং জামাকাপড় নোংরা হয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, কাঁচা ডিম দুটো ইচ্ছাকৃত ভাবে রেখে দেওয়া হয়ে থাকলে সেগুলি নষ্ট হওয়ার দায় কার? একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, রাজবীরের হাতে খাবার নষ্ট হয়েছে বলে যদি আগের ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে হয়, তা হলে এবার বিষয়টি কী ভাবে দেখা হবে? ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
এক দর্শক এই প্রসঙ্গে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এবার কি খাবার নষ্ট হলো না? জিতু রাজবীর এর সিদ্ধ ডিম এর জায়গায় কাচা ডিম রেখে দিয়েছে যাতে রাজবীর সেটা ছিলতে গেলে ওর হাত, জামা ময়লা হয়ে যায়।’ তাঁর দাবি, ‘কাচা ডিম দুটো যে নষ্ট করলো, এগুলো কি খাবার এর অপচয় নয়?’ ওই দর্শকের বক্তব্য, আগামী সপ্তাহে যদি সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন, তা হলে জিতুর তরফ থেকেও যুক্তি আসতে পারে যে রাজবীর নিজেই ডিম ভেঙেছেন। সেই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি কাচা ডিম খেলে না কেনো? কে রেখেছে সেটা বড় কথা নয়! তোমার হাত দিয়েই তো ভেঙেছে..তুমিই খাবার এর অপচয় করেছো।’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই দর্শকের একাংশ আসলে আগের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনাটির তুলনা টানছেন। তাঁদের প্রশ্ন, একই ধরনের খাবার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় কি দু’টি আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে?
এর আগের সপ্তাহেই নন্দিনীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে রাজবীরের খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার ঘটনা দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় ‘দাদার দরবারে’ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় রাজবীরের উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। শুধু বকাঝকা নয়, ওই ঘটনার পর রাজবীরকে দু’সপ্তাহের জন্য এভিকশনের মনোনয়নেও পাঠানো হয়েছিল। খাবার নষ্ট করাকে শোয়ের মধ্যে যে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, সেই বার্তাই তখন স্পষ্ট হয়েছিল বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাই এবার রাজবীরের জন্য রাখা সিদ্ধ ডিমের বদলে কাঁচা ডিম থাকার ঘটনা সামনে আসতেই আগের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ উঠছে। বিশেষ করে যদি ইচ্ছা করেই এমনটা করা হয়ে থাকে, তা হলে সেটিকেও খাবারের অপচয় হিসেবে দেখা হবে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। এই তুলনার জায়গা থেকেই দর্শকদের একাংশ জানতে চাইছেন, বিগ বসের নিয়ম কি এবারও একই ভাবে কার্যকর হবে?
এই ঘটনার প্রসঙ্গে ওই দর্শক আরও কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘যতই হোক ও আউটসাইডার আর জিতু হিরো বলে কথা, সাত খুন মাফ।’ অর্থাৎ তাঁর অভিযোগ, রাজবীরকে যেহেতু ‘আউটসাইডার’ হিসেবে দেখা হয় এবং জিতুর জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাই দু’জনের ক্ষেত্রে নিয়মের প্রয়োগ আলাদা হতে পারে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। তবে এটি সম্পূর্ণই দর্শকের মতামত এবং অভিযোগ, অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের তরফে এমন কোনও পক্ষপাতের কথা জানানো হয়নি। তবু এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলতে থাকা রাজবীর বনাম জিতু বিতর্ক আরও এক বার সামনে এসেছে। রাজবীরের হাত থেকে খাবার নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, সেটিও দর্শকদের আলোচনার অন্যতম বিষয়। এক পক্ষ মনে করছেন, কাঁচা ডিম রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তের দায় যাঁর, তাঁকেই প্রশ্ন করা উচিত। অন্য পক্ষের কাছে আবার বিষয়টি নিছক মজার ছলে করা একটি ঘটনা হতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে আসল প্রশ্ন একটাই, আগামী ‘দাদার দরবারে’ এই ঘটনা নিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কী অবস্থান নেন?
আরও পড়ুনঃ “এটা কি তোমার বরের স্যান্ডো গেঞ্জি?” “পুজো-আচ্ছার দিনে এমন পোশাক না পরলেই নয়?” লক্ষ্মীপুজোয় লাল-সাদা সাবেকি সাজে কাঞ্চনপত্নী শ্রীময়ী, সুন্দর সাজেও নজর আটকাল হাতাকাটা ব্লাউজে, নেটপাড়ায় শুরু তুমুল বিতর্ক!
রাজবীরকে ঘিরে চলতি বিতর্কে তাই ফের সামনে চলে এসেছে খাবার নষ্ট করার প্রসঙ্গ। আগের সপ্তাহে নিজের খাবার ডাস্টবিনে ফেলার ঘটনায় রাজবীরকে মনোনয়নের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এ বার তাঁর জন্য রাখা খাবারের বদলে কাঁচা ডিম থাকার ঘটনায় একই ভাবে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেটাই দেখার। বিশেষ করে দর্শকদের অভিযোগ যদি হয় যে ইচ্ছাকৃত ভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ রাজবীর নিজে কাঁচা ডিম খাওয়ার জন্য তা ভাঙেননি, বরং সিদ্ধ ডিম ভেবেই সেটি ধরেছিলেন, এমনটাই দাবি করছেন দর্শকদের একাংশ। তাই তাঁদের প্রশ্ন, খাবার নষ্ট হওয়ার ফল যদি শেষ পর্যন্ত রাজবীরকেই ভোগ করতে হয়, তা হলে যিনি কাঁচা ডিম রেখেছেন তাঁর কোনও দায় থাকবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য পাওয়া যাবে সঞ্চালকের পরবর্তী আলোচনাতেই। ততক্ষণ পর্যন্ত রাজবীরের এই ঘটনা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক এবং প্রশ্ন চলতেই থাকছে।
