টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা এবং দীর্ঘদিনের সাংসদ দেব সম্প্রতি রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। শুক্রবার রাতে তাঁর নতুন ছবি ‘ফেরা’-র প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। নতুন বিজেপি সরকারকে নিয়ে আশাবাদী শোনায় অভিনেতাকে। তবে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করতে নারাজ দেব। তাঁর মতে, নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সব পরিবর্তন চোখে পড়ে না। তাই ধৈর্য ধরেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পক্ষে তিনি।
নতুন সরকারের প্রসঙ্গে দেব বলেন, “মন্ত্রিসভা এখনও পুরোপুরি ঘোষণা হয়নি। তাই নতুন সরকারের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। তারা সব দিকেই ভালো কাজ করবে। সরকার চালানো এত সহজ নয় যে মাত্র একমাসের মধ্যে সব ফলাফল দেখা যাবে। এক বছর সময় দেওয়া উচিত।” অভিনেতার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান না। বরং নতুন প্রশাসনের কাজের জন্য সময় দেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো চলচ্চিত্র জগতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। একইসঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন দেব। তাঁর কথায়, “আগের সরকারের সময়ে আমি যেভাবে ভুগেছি, নতুন সরকারের সঙ্গে তা আর হবে না বলেই আশা রাখছি।” অভিনেতার মতে, নতুন প্রশাসনের অধীনে বাংলা চলচ্চিত্র জগত আরও স্বাভাবিক পরিবেশে কাজ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, “নতুন সরকার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো পরিস্থিতি তৈরি করবে। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখন আশার আলো দেখছি।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই টলিউড মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দেবের বক্তব্যকে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি মেদিনীপুরে একটি অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেবের কথোপকথনও বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, “মেদিনীপুর সব সময় এগিয়ে থাকে, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকলে আমি সবসময় পাশে থাকব।” পাশাপাশি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন নিয়েও তিনি আশাবাদী। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে যাবে বলেও বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বরাবরই সক্রিয় থেকেছেন দেব।
আরও পড়ুনঃ ‘আলতা ফড়িং’ থেকে ‘পরিণীতা’, এবার ‘দুলারী’! দারুণ অভিনেত্রী হয়েও কেন বারবার ‘মা’-এর চরিত্রেই আটকে যাচ্ছেন শাওলি চট্টোপাধ্যায়? বাংলা টেলিভিশন কি তাঁকে ধীরে ধীরে টাইপকাস্ট করে ফেলছে?
২০১৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের পর টানা তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন দেব। রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তৃণমূলের সাংসদ হয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বিজেপি-ঘনিষ্ঠ তারকাদেরও নিজের ছবিতে কাস্ট করেছেন। নানা বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি অভিনেতা। নতুন সরকারের আমলে টলিউডে আরও মুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে এবং কোনও শিল্পীকেই কাজের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হবে না বলেই আশা করছেন তিনি।
