টলিউডে আবারও কি মুখোমুখি হতে চলেছেন দুই সুপারস্টার জিৎ ও দেব? এমন প্রশ্নই ঘুরছে সিনেপাড়ার অন্দরে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, জিতের বহু প্রতীক্ষিত ছবি কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত মুক্তি পাবে দুর্গাপুজোর সময়। কিন্তু সাম্প্রতিক আলোচনায় জানা যাচ্ছে, সেই পরিকল্পনায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন জোর গুঞ্জন, পুজোর ভিড় এড়িয়ে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে আগামী মে মাসে। কারণ একই সময়ে দেবের বড় বাজেটের ছবি মুক্তির পরিকল্পনা থাকায় হল পাওয়া ও শো বণ্টন নিয়ে সমস্যার আশঙ্কা ছিল বলেই মনে করছেন অনেকে।
২০২৬ সালের পুজোর ক্যালেন্ডার ইতিমধ্যেই বেশ জমজমাট। দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় জুটি আবারও ফিরছে বড়পর্দায়, যা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের সময়েও দেব নিয়ে আসছেন বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা করিমূল হকের জীবনীভিত্তিক ছবি। ফলে এই দুটি বড় স্লটে দেবের ছবিই থাকায় একই সময়ে জিতের ছবি এলে হল বণ্টন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারত। টলিউডের বক্স অফিস গত কয়েক বছরে খুব একটা ভালো অবস্থায় না থাকায় প্রযোজকদের অনেকেই এখন মুক্তির সময় বেছে নেওয়ার ব্যাপারে বেশি সতর্ক।
তবে দেবের ভয়ে ছবি সরানো হয়েছে এমন ধারণা একেবারেই মানতে নারাজ জিৎ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুজোর সময় এত ছবি মুক্তি পায় যে সব ছবির সমান শো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দর্শক যদি পর্যাপ্ত শোই না পান, তবে ছবিটি দেখবেন কীভাবে সেটাই বড় প্রশ্ন। তাই ভালো শো পাওয়ার জন্যই সময় বদলের চিন্তাভাবনা চলছে। জিতের কথায়, তাঁর ছবির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ যথেষ্ট রয়েছে এবং সেই আগ্রহই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সঠিক সময়ে মুক্তি পাওয়াটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ
অবশ্য মে মাসে মুক্তির পরিকল্পনাও খুব সহজ নয়। কারণ ওই সময়েই উইন্ডোজ এবং সুরিন্দর ফিল্মসের দুটি বড় বাজেটের ছবিও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ৪ জুন মুক্তি পাবে প্যান ইন্ডিয়া ছবি টক্সিক, যেখানে দীর্ঘ চার বছর পর বড়পর্দায় ফিরছেন দক্ষিণী তারকা যশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেই ছবিকে ঘিরে দেশজুড়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জিতের বিপ্লবী অনন্ত সিংহের গল্প নিয়ে তৈরি ছবিটি বক্স অফিসে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ছবির অন্যতম প্রযোজক গোপাল মদনানি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ছবির মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আলোচনার পরেই শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর মতে, একটি হিন্দি বড় ছবি মুক্তি পেলে সেটি সামলানো যায়, কিন্তু দক্ষিণী ছবির ব্যাপক প্রভাব এখন সব ইন্ডাস্ট্রিতেই অনুভূত হচ্ছে। তাই বাজারের পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সময় বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সব আলোচনা শেষ হলে খুব শিগগিরই ছবির মুক্তির দিন ঘোষণা করা হবে বলেই আশা করছেন নির্মাতারা।
