নন্দিনী যেতেই রাজবীরের বাঁধ-ভাঙা কান্না, পরদিন স্বাভাবিক হতেই ‘নাটক’ বলে কটা’ক্ষ দুর্নিবারের! তাকে তাড়াতে জোট বাঁধলেন জিতু, সৌরভের সঙ্গে! ‘ভেতরটা ভীষণ নোং’রা’, ‘অন্তত অন্য কাউকে ‘আই লাইক ইউ’ বলেনি’ গায়ককে ধু’য়ে দিলেন দর্শকরা!

বিগ বস বাংলার ঘরে নন্দিনী দত্তকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। গতকাল নন্দিনীকে মূল ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রাজবীর দে। তবে দর্শকরা জানেন, নন্দিনী আসলে পুরোপুরি বিগ বসের বাড়ি ছেড়ে চলে যাননি। তাঁকে পাঠানো হয়েছে সিক্রেট রুমে, যেখানে থেকে তিনি লুকিয়ে ঘরের বাকি প্রতিযোগীদের গতিবিধি দেখতে পারবেন। কিন্তু এই বিষয়টি এখনও বাড়ির কোনও সদস্য জানেন না, বিশেষ করে রাজবীরের কাছেও বিষয়টি সম্পূর্ণ অজানা। নন্দিনী চলে যাওয়ার পর রাজবীরকে যেভাবে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল, তাতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন বাড়ির অন্যান্য প্রতিযোগীরাও। তাঁর কান্না দেখে অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কিন্তু সেই ঘটনার পরের দিন সকাল থেকেই রাজবীরকে বেশ স্বাভাবিক মেজাজে দেখা যায়। আর রাজবীরের এই আচরণই এবার আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তনুশ্রী এবং দুর্নিবারের মধ্যে।

বিগ বসের ২৪ ঘণ্টার লাইভ ফিডে দর্শকরা দেখতে পান, রাজবীরের আচরণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন তনুশ্রী এবং দুর্নিবার। সেখানে দুর্নিবারকে বলতে শোনা যায়, আগের দিন রাজবীরের গার্লফ্রেন্ড বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় যেভাবে সে কেঁদেছিল, তা দেখে তাঁরাও কেঁদে ফেলেছিলেন। কিন্তু পরের দিন সকালেই রাজবীরকে এতটা স্বাভাবিক দেখে অবাক হয়েছেন তিনি। দুর্নিবারের বক্তব্য, এমন একটা ঘটনা ঘটার পরেও রাজবীরকে দেখে মনে হচ্ছে না যে তাঁর জীবনে বিশেষ কিছু ঘটেছে। তাঁর কথায়, সকাল থেকেই রাজবীর অত্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছেন। এমনকি নন্দিনীর জন্য রাখা খাবারদাবার, ডিমসহ তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও সরিয়ে রাখতে দেখা গিয়েছে রাজবীরকে। এই বিষয়গুলিকেও আলোচনার মধ্যে টেনে আনেন দুর্নিবার। তাঁর কথায়, আগের দিনের কান্নার সঙ্গে পরের দিনের আচরণের কোনও মিল খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। সব মিলিয়ে রাজবীরের আবেগপ্রকাশকে ঘিরে কার্যত প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় দুর্নিবারকে।

তবে লাইভ ফিডের এই কথোপকথন সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, নন্দিনী বিগ বসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি তো মারা যাননি যে রাজবীরকে সারাদিন তাঁর জন্য কেঁদে যেতে হবে! বিগ বসের বাড়িতে প্রত্যেকেই খেলতে এসেছেন এবং যত দিন প্রতিযোগী হিসেবে থাকবেন, তত দিন নিজেদের মতো করে খেলতে হবে। কেউ কোনও দুঃখের মুহূর্ত কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে, সেটাকে নাটক বলে দাগিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকরা। অনেকের মতে, আগের দিন রাজবীর যে আবেগ প্রকাশ করেছিলেন, সেটাই ছিল তাঁর মনের অবস্থা। কিন্তু পরের দিন নিজেকে সামলে নিয়ে খেলায় মন দেওয়া মানেই আগের দিনের কান্না মিথ্যে হয়ে যায় না। বরং নন্দিনী পাশে না থাকলেও নিজের দায়িত্ব এবং খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন রাজবীর। দর্শকদের একাংশের দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁকে আরও বেশি করে কটাক্ষ না করে বরং নিজের মতো করে সামলে ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

এখানেই শেষ নয়, দুর্নিবারের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনায় টেনে এনেছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, দুর্নিবার নিজেও বিগ বসের বাড়িতে এসে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা তৈরি করেছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে স্ত্রী এবং সন্তান থাকা সত্ত্বেও শ্রীলার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একসময় নানা আলোচনা হয়েছিল। যদিও এই সম্পর্ক নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা অনুমানকে নিশ্চিত সত্য বলে প্রমাণ করা হয়নি। তবে দর্শকদের একাংশের দাবি, সেই বিতর্ক সামনে আসার পর থেকেই দুর্নিবারকে শ্রীলার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের কটাক্ষ, নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত আলোচনা থাকার পরেও অন্যের সম্পর্ক এবং আবেগ নিয়ে মন্তব্য করার আগে দুর্নিবারের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। অনেকেই আবার মনে করছেন, দুর্নিবার যে রাজবীরকে বিশেষ পছন্দ করেন না, তা আগের বিভিন্ন ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত অপছন্দের জায়গা থেকে এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে কাউকে কটাক্ষ করা মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না তাঁরা।

দর্শকদের একাংশের মতে, রাজবীর এবং দুর্নিবারের মধ্যে মতের অমিল বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু নন্দিনী চলে যাওয়ার পর রাজবীর যে মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, সেই সময় তাঁর আচরণ নিয়ে এভাবে আলোচনা করা কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আগের দিন রাজবীরের কান্না দেখে যাঁরা নিজেরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদেরই পরের দিন তাঁর স্বাভাবিক আচরণ দেখে নাটকের তকমা দেওয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে দর্শকদের। অনেকের মতে, রাজবীর হয়তো নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সারাক্ষণ কান্নাকাটি না করে আবার খেলায় মন দেওয়া তাঁর অপরাধ হতে পারে না। অন্যদিকে নন্দিনী যে সিক্রেট রুমে রয়েছেন, সেই সত্যিটাও এখনও রাজবীরের অজানা। ফলে তাঁকে ঘিরে বাড়ির ভিতরে কী ধরনের আলোচনা হচ্ছে, সে সম্পর্কেও তিনি কিছুই জানেন না। সব মিলিয়ে নন্দিনীর বিদায়ের পর রাজবীরের কান্না থেকে শুরু করে পরদিনের স্বাভাবিক আচরণ, সবকিছু নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিগ বস বাংলার বাড়িতে। এবার এই মন্তব্যের পর রাজবীর ও দুর্নিবারের সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page