“ছিঃ জিতু কমল!” বিনোদনের নামে এমন কারচুপি? সস্তার বিনোদনের জন্য কি খেলার নিয়ম বা সঞ্চালকের নিরপেক্ষতা এভাবে বদলে দেওয়া যায়? দুর্নিবারকে হারাতে লাক্সারি বাজেট টাস্ক-এ জিতুর অবিচার নিয়ে ক্ষু’ব্ধ বিগ বসের দর্শকরা!

বিগ বস বাংলার ৫৯তম পর্ব দেখার পর জিতু কমলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন একাংশ দর্শক। বিশেষ করে বিলাসবহুল সামগ্রীর বাজেটের খেলায় সঞ্চালক হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। দর্শকের অভিযোগ, দুর্নিবার সাহার প্রতি ব্যক্তিগত রাগ থেকেই নাকি জিতু এমন কিছু করেছেন। যে খেলায় দুর্নিবারকে কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করতে দেখা গিয়েছে, সেখানে তাঁর দল শেষ পর্যন্ত হেরে যায়। ভারী চাকা তিন বার ঘুরিয়ে নির্দিষ্ট পথ অতিক্রম করার মতো কঠিন কাজ করতে হয়েছে দুর্নিবারকে। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে সেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, সেই খেলার সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন জিতু কমল। তাঁর কাজ ছিল খেলার নিয়ম মেনে দুই দলের মধ্যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। কিন্তু দর্শকের একাংশের দাবি, সেখানেই নাকি তৈরি হয়েছে আসল বিতর্ক।

দর্শকের অভিযোগ অনুযায়ী, সৌরভের সময় গণনার ঘড়ি বার বার থামিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়েই মূল আপত্তি। তাঁদের দাবি, এতে সৌরভের হাতে থাকা সময় কম দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ফলে দুর্নিবারের দলকে হারানোর ক্ষেত্রে খেলার ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে, কারণ জিতু নিজেই সৌরভের সঙ্গে কথোপকথনের সময় এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দর্শকের দাবি। জিতুর বক্তব্য ছিল, তিনি নাকি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য এমনটা করছিলেন। কিন্তু দর্শকের প্রশ্ন, বিনোদন তৈরি করতে গিয়ে কোনও খেলার নিয়ম বা সঞ্চালকের নিরপেক্ষতা কি বদলে দেওয়া যায়? একজন সঞ্চালকের দায়িত্ব যেখানে দুই পক্ষের খেলা সমান ভাবে পরিচালনা করা, সেখানে এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক বলে মত তাঁদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে জিতুর ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিশেষ করে দুর্নিবারের দলের সমর্থকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ আরও বেশি চোখে পড়ছে।

দর্শকের বক্তব্য, প্রথমে খেলাটি সমতায় নিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বারও সৌরভকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের চোখে বিষয়টি আর নিছক মজার অংশ বলে মনে হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের প্রভাব খেলায় পড়ছে কি না, সেই প্রশ্নই সামনে আসছে। দুর্নিবারের সঙ্গে জিতুর আগেও একাধিক বার মতবিরোধ এবং বচসা দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক বিলাসবহুল সামগ্রীর বাজেটের খেলাতেও জিতু সঞ্চালকের দায়িত্বে থেকে তনুশ্রীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন। এমনকি তাঁকে খেলা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন জিতু। এরপর নতুন করে দুর্নিবারের দলের বিরুদ্ধে তাঁর সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় দর্শকের একাংশ আগের ঘটনাগুলিও টেনে আনছেন। তাঁদের প্রশ্ন, জিতু কি সত্যিই সঞ্চালকের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, নাকি নিজের ব্যক্তিগত সমীকরণও সেখানে প্রভাব ফেলছে? যদিও এই অভিযোগ দর্শকের একাংশের, তা নিয়ে এখনও অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

এখানেই থামছেন না ক্ষুব্ধ দর্শকেরা। তাঁদের একাংশের দাবি, জিতুকে আর কোনও খেলায় সঞ্চালকের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। কারণ সঞ্চালকের জায়গায় থেকে তাঁর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ পুরো খেলাটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে মনে করছেন তাঁরা। দর্শকের বক্তব্য, খেলায় প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া বা উত্তেজনা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে সঞ্চালকের দায়িত্ব আরও নিরপেক্ষ হওয়া দরকার। বিনোদনের জন্য নিয়মের মধ্যে কিছু মজার পরিস্থিতি তৈরি করা আর কোনও একটি দলকে সুবিধা করে দেওয়া এক বিষয় নয় বলেই তাঁদের মত। তাই দুর্নিবারের দলের পরাজয়ের পিছনে জিতুর সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন, অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন জিতুর এমন আচরণ নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দর্শকের ক্ষোভের মূল জায়গা তাই শুধু জিতুর সিদ্ধান্ত নয়, কর্তৃপক্ষের নীরবতাও।

এদিকে জিতুর অনুরাগীদের একাংশের বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। তাঁদের মতে, জিতু শুরু থেকেই নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতা এবং দুষ্টুমি দিয়ে অনুষ্ঠানে বিনোদনের মাত্রা বাড়াচ্ছেন। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, প্রতিযোগিতামূলক খেলায় সেই দুষ্টুমিরও তো একটি সীমা থাকা উচিত। দর্শকের একাংশের ক্ষোভের ভাষাতেই বলা হচ্ছে, ‘বিনোদনের নামে এমন খেলা আমরা চাই না।’ কেউ কেউ এমনও বলছেন, যদি সঞ্চালকই নিজের পছন্দ অনুযায়ী সময় থামান বা বাড়ান, তাহলে প্রতিযোগীদের পরিশ্রমের মূল্য কোথায়? দুর্নিবার যে পরিশ্রম করে খেলাটি শেষ করার চেষ্টা করেছেন, সেই পরিশ্রমের পরেও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি আরও আলোচিত হয়েছে। এখন দর্শকের নজর বিগ বস কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। জিতুর এই ভূমিকা নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, নাকি ঘটনাটিকে শুধুই বিনোদনের অংশ হিসেবে দেখা হবে, সেটাই দেখার। তবে ৫৯তম পর্বের এই ঘটনা যে জিতু এবং দুর্নিবারের সমীকরণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page