গত কয়েক বছর ধরে কলকাতায় পাকাপাকি ঠিকানা হলেও অভিনেত্রী শ্রুতি দাস এর হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কাটোয়া। সেখানেই তাঁর শৈশব, সেখানেই বড় হয়ে ওঠা। তাই দোল এলেই মন ফিরে যায় সেই ছোট শহরের অলিগলিতে। কলকাতার দোল উৎসব এখনও তাঁকে সেভাবে টানতে পারেনি। তাঁর কথায়, কাটোয়ার দোলের আবহ, মানুষজন আর উৎসবের আন্তরিকতা আলাদা মাত্রা এনে দিত। এখন শহরে ব্যস্ততা বেশি, আয়োজন বড়, কিন্তু সেই আপন ঘরোয়া টান যেন আর খুঁজে পান না তিনি। তাই যতই দূরে থাকুন, রঙের উৎসব মানেই তাঁর কাছে কাটোয়ার স্মৃতিই আগে ভেসে ওঠে।
শ্রুতি জানালেন, তাঁদের এলাকায় রং খেলার নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। দোলের দিন নয়, বরং পরের দিনই রঙে মাতে সবাই। এই দিনটিকে তাঁরা বলেন কাটোয়ার দোল। বিশেষ করে কাটোয়ার গৌরাঙ্গবাড়িতে পুজো দিয়ে রং খেলার সূচনা হয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী, সেখানেই একসময় শ্রীচৈতন্যদেব এর মস্তকমুণ্ডন হয়েছিল বলে বিশ্বাস। সেই ঐতিহাসিক আবহে রঙের শুরু যেন উৎসবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ছোটবেলায় এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতেন শ্রুতি। সকাল থেকে বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা, নতুন কাপড়, আর সারাদিন রঙে ভেজার উচ্ছ্বাসে ভরে থাকত মন।
শুধু একদিন নয়, তাঁদের দোল ছিল দুদিনের আনন্দে ভরা। প্রথম দিন আবির খেলা হত, লাল আর গোলাপি রঙে রাঙানো মুখে থাকত হাসির ছটা। দ্বিতীয় দিন শুরু হত জলরঙের হুল্লোড়। পিচকিরি, বালতি আর হাসিঠাট্টায় কেটে যেত সময়। তবে এখন সেই আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। বয়স, ব্যস্ততা আর জীবনের বদলানো ছন্দ হয়তো সেই ছেলেবেলার নির্ভার উচ্ছ্বাসকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তবু স্মৃতির ভাঁজে জমে থাকা রঙিন দিনগুলো এখনও তাঁর মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
দোল নিয়ে আরেকটি মজার তথ্যও শেয়ার করলেন শ্রুতি। এত রঙের উৎসব, এত আনন্দের দিন, তবু কোনওদিন দোলের সময় প্রেম হয়নি তাঁর। কাকতালীয় ভাবে বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে তিনি সিঙ্গলই থেকেছেন। এখন অবশ্য তাঁর জীবনে আছেন স্বামী স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার। কিন্তু মজার বিষয়, স্বর্ণেন্দু একেবারেই রং খেলতে পছন্দ করেন না। ফলে বিয়ের পর থেকে দোলের রঙিন উচ্ছ্বাস আরও কমে এসেছে তাঁর জীবনে।
আরও পড়ুনঃ “যু’দ্ধ নয়, শান্তি চাই…আমার সমস্ত অপরাধের…” মেয়ে তিষ্যার প্রথম জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন অনিন্দিতা, কৃতজ্ঞতায় ভরালেন স্বামী ও চিকিৎসকদের! এক বছরের মাতৃত্বে কী প্রাপ্তি অভিনেত্রীর?
এই না খেলতে পারার মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটুখানি আক্ষেপ। শ্রুতি অকপটে স্বীকার করেন, স্বামী রং উপভোগ না করায় তাঁর নিজের খেলাও আর সেভাবে হয়ে ওঠে না। যদিও তিনি কাউকে দোষ দেন না, তবু মনে হয় কোথাও যেন কিছু অপূর্ণ রয়ে গেল। কাটোয়ার দোলের সেই রঙিন দিন, বন্ধুদের হাসি আর গৌরাঙ্গবাড়ির পুজোর পর শুরু হওয়া উচ্ছ্বাসই আজও তাঁর কাছে দোলের আসল সংজ্ঞা। সময় বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে, তবু শিকড়ের টান আর রঙিন স্মৃতি আজও সমান উজ্জ্বল।
