দর্শকদের মনে নিজের জায়গা করে নেওয়া সেই ‘প্রজাপতি’র দ্বিতীয় অংশ, নতুন ছবি ‘প্রজাপতি ২’-এ অভিনয় করে ইতিমধ্যেই দর্শকের মন জয় করেছেন অভিনেত্রী ‘জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু’ (Jyotirmoyee Kundu)। বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি যেন একেবারেই স্বাভাবিক আর প্রাঞ্জল। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছনোর পথ সহজ ছিল না। বর্ধমান থেকে কলকাতায় এসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, শুটিং ফ্লোরের অজানা পরিবেশ এবং শিল্পজগতে নতুন হওয়ার চাপ, সবকিছুতেই তিনি অনেকটা ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়েছেন।
ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় আসার পথটা, প্রতিদিনের কঠিন পরিশ্রম আর বাবা-মায়ের অকৃত্রিম সমর্থন সহজ করে দিয়েছে। প্রথম ছবিতেই ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ (Mithun Chakraborty) এবং দেবের সঙ্গে কাজ করা তাঁর জন্য ছিল এক স্বপ্নের মতো। প্রথম ছবি হিসেবে উত্তেজনার পাশাপাশি শুটিং চলাকালীন সময়ে বিদেশে থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাও ছিল। কিন্তু এদিন আবেগঘন অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি বললেন, “কোনদিনও বাবা-মাকে ছেড়ে এত দূরে থাকিনি তো।
দীঘা পর্যন্ত কোনদিনও যায়নি। সেখানে বিদেশে গিয়ে অতদিন, বাড়িতে সবাই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। বিদেশে আবার তেমন নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না সবসময়। যখনই শুটিংয়ের ফাঁকে একটু নেটওয়ার্ক পেতাম, বাড়িতে ফোন করে কথা বলতাম। একদিন মিঠুনদা সেটা লক্ষ্য করেন, আমাকে কি জানতে চাইলে আমি সবটা বলি। তিনি বলেন, ‘তোমার বাবাকে চিন্তা করতে বারণ করে দাও। বলে দাও, যেখানে মিঠুন চক্রবর্তী আছে সেখানে তোমার কোনও ক্ষতি হতে দেবে না।’ ওই কথাটা আমাকে ছুঁয়ে গেছিল। অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম ওনার দিকে!”
এই মুহূর্তটি তাঁর মনে এক গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘প্রজাপতি ২’ ছবিতে জ্যোতির্ময়ীর চরিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্ব। এবারের গল্পে দেব একজন সিঙ্গেল ফাদার আর তাঁর বাবার চরিত্রে মিঠুন চক্রবর্তী। সম্পর্কের সরলতা ও আবেগের মিশ্রণ দর্শকের কাছে গভীরভাবে পৌঁছেছে। জ্যোতির্ময়ী জানান, প্রথমবার এত বড় বড় এবং অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী থাকার শক্তি জুগিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “এই ধারাবাহিকের মানুষজন আমায় নিয়ে বিরক্ত, তাঁরা জুতসই কাজ করতে পারছে না…” নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মসমালোচনায় জিতু! নতুন বছর শুরু হতেই কি সিদ্ধান্ত বদলালেন তিনি?
এদিন ছবির প্রচারে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রথম কাজের যে অভিজ্ঞতার কথা তিনি ভাগ করে নিলেন, তাঁর জন্য এই অভিজ্ঞতা শুধু অভিনয় নয় বরং একটি মানবিক সংযোগও। সিনেমার ভেতরের সম্পর্কের মতো শুটিং ফ্লোরেও তিনি দেখলেন যে যত বড় ব্যক্তিত্বই হোক, সহানুভূতি এবং মানবিকতা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে কেবল অভিনয়ে নয়, ব্যক্তিগতভাবেও আরও আত্মবিশ্বাসী ও ধৈর্যশীল করেছে বলে জানান অভিনেত্রী। ভবিষ্যতে অভিনেতার সঙ্গে আরও ছবি করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
