তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকদের কাছে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ছবিটি যেমন বক্স অফিসে সফল হয়েছিল, তেমনই গল্প এবং অভিনয়ের জন্যও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় এবার মুক্তি পাচ্ছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। নতুন ছবির প্রচারে এসে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ছবি নিয়ে যেমন কথা বললেন, তেমনই উঠে এল তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা কথাও। বিশেষ করে স্ত্রীকে নিয়ে কৌশিকের মন্তব্য অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমার যখন কাজ ছিল না, চূর্ণী সংসার চালিয়েছে।” তাই তাঁর কাছে চূর্ণী শুধু ‘অর্ধাঙ্গিনী’ নন, বরং ‘পূর্ণাঙ্গিনী’।
ছবির শুভ্রা চরিত্রে অভিনয় করা চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “যখন ‘অর্ধাঙ্গিনী’র হল ভিজিটে যেতাম তখন থেকেই আমি এবং জয়া বহুবার শুনেছি, সেকেন্ড পার্ট কবে আসবে? অবশেষে তিন বছর পর দর্শকের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছি।” অন্যদিকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ও জানান, শুধু বাংলাতেই নয়, বিদেশেও বহু মানুষ তাঁকে এই ছবির দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। তাঁর কথায়, “এর চাপ এমনই ছিল যে, দু’নম্বর ছবি তৈরি হওয়ার সময়ই প্রযোজক জানতে চেয়েছিলেন, তিন নম্বর ছবির কথা ভাবছি কি না। আমি তখন সোজা না বলেছি। দর্শক চাইলে তিন নম্বর হবে, না চাইলে হবে না।”
ছবির গল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চূর্ণী বলেন, শুভ্রা চরিত্রটি তিনি বহুদিন ধরে নিজের মধ্যে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর মতে, তিন বছর আগে এবং তিন বছর পর একই মানুষের মানসিক অবস্থার যে পরিবর্তন, সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে। একজন নারীর জীবনের টানাপোড়েন, দ্বন্দ্ব এবং মানসিক পরিবর্তনের দিকগুলো ফুটিয়ে তুলতে গিয়েই চরিত্রটির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। চূর্ণীর কথায়, “কোনও মানুষের সাইকোলজিক্যাল জার্নির মধ্যে ঢুকলে তার রেশ থেকে যাওয়াই স্বাভাবিক।” সেই অভিজ্ঞতাই এবারও অভিনয়ে কাজে লেগেছে বলে জানান অভিনেত্রী।
চূর্ণীর জন্য চরিত্র লেখা কতটা কঠিন, সেই প্রশ্নের উত্তরে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “যে লেখকই চূর্ণীর জন্য চরিত্র লিখবেন, তাঁকে চূর্ণীর ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করবে, ভাবতে বাধ্য করবে। আমার ভাবনাকে উপস্থাপন করার জন্য একটা মুখ দরকার, যেটা আমি চূর্ণীর মধ্যে পাই।” শুধু অভিনয় নয়, ছবির নানা খুঁটিনাটি বিষয়েও চূর্ণীর মতামত থাকে। পরিচালক জানান, ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, জীবনে বড় সংকট এলেও একজন মানুষ সবসময় সাদামাটা হয়ে থাকবেন, এমন নয়। বরং রঙিন পোশাক পরে নিজেকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার ভাবনাটি চূর্ণীরই দেওয়া।
দু’জনেই সৃজনশীল মানুষ হওয়ায় মতের অমিল হওয়া স্বাভাবিক বলেই মনে করেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ক্রিয়েটিভ মানুষদের ভাবের আদানপ্রদানে দ্বিমত থাকতেই পারে। আমার এবং কৌশিকের ছবি দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। আমাদের দু’জনের বানানো ছবিও অন্যধারার।” সেই প্রসঙ্গেই কৌশিক যোগ করেন, “আমার ছবিতে কাহিনি, চিত্রনাট্য কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় লেখা থাকে ঠিকই, কিন্তু সেই চিত্রনাট্যে চূর্ণী এবং উজানের অবদান অনেক। আমাদের বাড়ির ডাইনিং টেবিলেই গল্প তৈরি হয়।” পরিবারের এই যৌথ সৃজনশীলতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুনঃ টেলিপাড়ায় ফিরছে ‘মিঠাই রানী’! জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক ‘ত্রয়ী’তে একসঙ্গে থাকছেন দু’ই অভিনেত্রী, অন্বেষা হাজরা ও সৌমিতৃষা কুণ্ডু? কাকে দেখা যাবে কোন ভূমিকায়, কবে প্রকাশ্যে আসবে প্রোমো?
আলোচনার শেষে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনের একটি আবেগঘন স্মৃতিও সামনে আসে। তিনি বলেন, “আমার যখন কাজ ছিল না, চূর্ণী সংসার চালিয়েছে।” সেই কারণেই স্ত্রীকে তিনি শুধু ‘অর্ধাঙ্গিনী’ নয়, ‘পূর্ণাঙ্গিনী’ বলেই মনে করেন। উল্লেখ্য, জুলাই মাস গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১০ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, আর ২৪ জুলাই মুক্তি পাবে তাঁদের ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত ‘কাতুকুতু বুড়ো’। ফলে একই মাসে পরিবারের দুটি ছবি মুক্তি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত কৌশিক, চূর্ণী এবং তাঁদের অনুরাগীরা।
