আজকাল বিনোদন জগতে চেহারা আর বয়স নিয়ে মাতামাতি যেন একটু বেশীই। বিশেষ করে যখন বোটক্স আর ফিলার্সের মতো প্রসাধনী পদ্ধতি খুব সহজলভ্য, তখন অনেকেই ভাবেন, তারকারা বুঝি এভাবেই বয়সকে আটকে রাখেন! হলিউডে শুরু হলেও, বলিউডে এই প্রবণতা বহুদিনের। জাহ্নবী কাপুর, অনুষ্কা শর্মা বা দীপিকা পাড়ুকোন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সহ তালিকাটা বেশ লম্বা। হাল ফিলহালে টলিপাড়াতেও (Tollywood) সেই প্রভাব পৌঁছেছে। ঠোঁট বা নাকের গঠন বদলাতে কিংবা ত্বক টানটান রাখতে অনেকে চিকিৎসার সাহায্য নেন।
তবে, বিষয়টা নিয়ে মতভেদও কম নয়। এই বিতর্কের মাঝেই আলাদা করে নজর কেড়েছেন ‘কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Koneenica Banerjee)। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির অংশ তিনি, পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়সেও নিজের উপস্থিতি দিয়ে দর্শকদের আকর্ষণ করেন, যদিও তথাকথিত ‘স্লিম-ট্রিম’ ছাঁচে তিনি পড়েন না। এই মুহূর্তে জি বাংলার রান্নাঘরের সঞ্চালিকা তিনি আর কিছুদিন আগেই এক ফটোশ্যুটে তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি অনেকের নজর কেড়েছিল। বয়স লুকোনোর চেষ্টা নয়, বরং সময়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার কথাই তিনি তুলে ধরেছেন বরাবর।
তাঁর মতে, নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি, কিন্তু শুধুমাত্র চামড়া টানটান রাখার জন্য অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি। টলিপাড়ায় অবশ্য বোটক্স বা ফিলার্স নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী কিংবা নুসরত জাহানদের ছবি প্রকাশ পেলেই নেটমাধ্যমে নানান মন্তব্য দেখা যায়। তবে তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাইরের কারও বিচার করা ঠিক নয়। একজন অভিনেত্রীর পেশাগত প্রয়োজন, আত্মবিশ্বাস কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ মিলিয়েই এই সিদ্ধান্ত আসে।
বাইরে থেকে তা সহজে বোঝা যায় না। আবার অন্যদিকও রয়েছে। কোয়েল মল্লিক এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, কৃত্রিম উপায়ে চেহারায় বড় পরিবর্তন আনার পক্ষপাতী নন তাঁরা। তাঁদের মতে, নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রেখেই যতটা সম্ভব পরিচর্যা করা ভালো। বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তা পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টায় কখনও কখনও উল্টো ফলও হতে পারে। তাই প্রয়োজন আর বাড়াবাড়ির মধ্যে পার্থক্য রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুনঃ “বাঙালিদের অনেক সমস্যা…” বিতর্কিত মন্তব্য মেগাস্টার দেবের! আচমকা কেন বাংলার মানুষদের খুঁত তুলে ধরলেন প্রকাশ্যে? নেপথ্যে কীসের ইঙ্গিত?
সবকিছুর মধ্যে এটা তো পরিষ্কার যে একই ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও, সবার মত এক নয়! কেউ বয়সকে আড়াল করতে চান, কেউ তা উদযাপন করেন, আবার কেউ বিষয়টাকে একান্ত ব্যক্তিগত বলে মনে করেন। কনীনিকা এখন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা আর আসন্ন ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত, তাই এই বয়সে এসে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ নিয়েও বিশেষ উত্তেজনা অনুভব করছেন না বলেই জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত হয়তো এটুকুই সত্যি, চেহারার চেয়ে আত্মবিশ্বাসই মানুষকে আলাদা করে তোলে।
