জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

লাইমলাইট থেকে স্বেচ্ছায় নির্বাসন! বিয়ে হতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন মধুমিতা! ধারাবাহিক থেকে বাদ পড়ার পরেই কি বড় সিদ্ধান্ত?

সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে দুনিয়া থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। আজকের সময়ে যেখানে তারকাদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে থাকে ভার্চুয়াল উপস্থিতি, সেখানে তাঁর এই সচেতন সরে আসা অনেকের কাছেই চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই সিদ্ধান্তে রয়েছে গভীর উপলব্ধি। তিনি মনে করেন, সবকিছু জানতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। সারাদিন স্ক্রল করে সময় নষ্ট করার বদলে নিজের মানসিক শান্তি, ব্যক্তিগত পরিসর এবং বাস্তব জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই পরিবর্তন তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখন জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে শিখেছেন তিনি। খুব কাছের মানুষদের নিয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর ছোট্ট সুখের পৃথিবী। তাঁর উপলব্ধি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত উপস্থিতি অনেক সময় অযথা তুলনা, অপ্রয়োজনীয় চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে। তাই নিজের শক্তি সব জায়গায় ছড়িয়ে না দিয়ে সেটিকে সংরক্ষণ করাই বেশি প্রয়োজন। এই সঞ্চিত এনার্জিই তিনি কাজে, সম্পর্কের যত্নে এবং নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ব্যবহার করতে চান। জীবনের গতি ধীর করে দেখার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক নতুন প্রশান্তি।

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্য, ট্রোল বা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া কখনওই তাঁর স্বভাবের সঙ্গে যায় না। যে কোনও পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখা, ভদ্রতা বজায় রাখা এবং নিজের আবেগ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যেই তিনি বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, মুহূর্তের উত্তেজনা অনেক সময় দীর্ঘ সময়ের শান্তি কেড়ে নেয়। তাই অযথা প্রতিক্রিয়া না দেওয়াই সবচেয়ে পরিণত সিদ্ধান্ত। নিজের মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখাই তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই জীবনদর্শনই ধীরে ধীরে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে নতুন সূচনা। বসন্তের পবিত্র আবহে দ্বিতীয়বার সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন তিনি। ছোটবেলার বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী দেবমাল্য চক্রবর্তী এর সঙ্গে বাঙালিয়ানার আবেশে শুরু করেছেন নতুন পথচলা। ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে সম্পন্ন হওয়া এই বিবাহ তাঁর জীবনে এনে দিয়েছে গভীর স্থিরতা ও মানসিক প্রশান্তি। নতুন সম্পর্কের উষ্ণতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি এখন তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

নতুন দাম্পত্য, মানসিক শান্তি এবং ভার্চুয়াল জগত থেকে সচেতন দূরত্ব মিলিয়ে জীবনের অগ্রাধিকার তালিকাই বদলে ফেলেছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, বাস্তব সম্পর্কই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনপ্রিয়তা বা দৃশ্যমানতা নয়, বরং অন্তরের শান্তি এবং আপনজনদের ভালোবাসাই জীবনকে পূর্ণ করে। এই নতুন উপলব্ধি তাঁকে আরও স্থির, আরও সংযত করে তুলেছে। জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় রাখা এবং বাস্তব মুহূর্তকে অনুভব করাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page