ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ ওঝাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার এক উদ্বেগজনক খবর সামনে আসে। ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে চলছিল জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিনীতা’-র (Parineeta) শুটিং। সেই সময় আচমকাই ঝড়ের তীব্র দাপটে স্টুডিও চত্বরে তৈরি হয় আতঙ্কের পরিবেশ। ঝড়ের বেগ এতটাই বেশি ছিল যে স্টুডিওর ভেতরে থাকা একটি বিশাল বটগাছ শিকড়-সহ উপড়ে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উপস্থিত শিল্পী, কলাকুশলী এবং ইউনিট সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সৌভাগ্যবশত বড় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, উপড়ে পড়া বটগাছটি সরাসরি স্টুডিওর পার্কিং এলাকায় গিয়ে আছড়ে পড়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা এলাকা কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনটি চার চাকার গাড়ি এবং চারটি দুচাকার যানবাহনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাড়িগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। স্টুডিও চত্বরে এমন ঘটনা বিরল বলেই মত অনেকের।
এই ঘটনার মধ্যেই অল্পের জন্য বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান অভিনেতা মনোজ ওঝা। তাঁর গাড়িও ওই পার্কিং এলাকায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে তাঁর সাদা রঙের গাড়িটি বড় ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যায়। ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন অভিনেতা। তিনি লেখেন, “একটুর জন্য আজ আমার সাদা গাড়িটা বেঁচে গেছে, কিন্তু অন্য দুটো চার চাকা এবং চারটে দুচাকার গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।” তাঁর এই পোস্ট সামনে আসতেই দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনুরাগীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেন যে অভিনেতা নিরাপদ রয়েছেন।
ঘটনার সময় ‘পরিনীতা’-র শুটিং চলছিল বলে ইউনিটের সদস্যদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে অনেকেই প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারেননি। পরে গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ এবং পার্কিং এলাকার ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখে সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং শুটিং ইউনিটের সদস্যদের কারও আঘাত লাগেনি বলে জানা গিয়েছে। সেটে উপস্থিত সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। তবুও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্টুডিওর ভিতরে এমন ঘটনা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুঃসংবাদ! ১০৪ বছরেই থামল সুরের পথচলা! না ফেরার দেশে দুই বাংলার বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী! সঙ্গীতপ্রেমীদের কাঁদিয়ে, নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ!
এদিকে মনোজ ওঝা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ঘটনার কিছু ছবিও ভাগ করে নিয়েছেন। সেই ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর অবস্থা স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরে অভিনেতা সুস্থ ও নিরাপদ আছেন জেনে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। অনেকে কমেন্ট করে তাঁর নিরাপত্তা কামনা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব যে বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারত, সে বিষয়ে একমত সকলেই। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি না হওয়ায় সেটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর বলে মনে করা হচ্ছে।
